ফিলিপাইনে ফেরিতে ভয়াবহ আগুন: নিহত ৫, নিখোঁজ ৮৬
ফিলিপাইনের পালাওয়ান উপকূলের কাছে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮৬ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বুধবার দেশটির উপকূলরক্ষী বাহিনী এ দুর্ঘটনার তথ্য জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ফিলিপাইন কোস্টগার্ড জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে সাগরে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে আগুন লাগার সময় ফেরিটিতে থাকা সবাইকে এখনো শনাক্ত বা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ‘এমভি জুন অ্যাস্টার’ নামের ফেরিটিতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে মোট ১৩৪ জন ছিলেন। এর মধ্যে ১১৭ জন যাত্রী এবং ১৭ জন ক্রু সদস্য। ম্যানিলা বন্দর থেকে পালাওয়ান প্রদেশের কোরন শহরের দিকে যাচ্ছিল ফেরিটি। বারাঙ্গাই মারসিল্লা এলাকা থেকে প্রায় ১ দশমিক ২ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থানকালে এতে আগুন ধরে যায়।
কোস্টগার্ডের ক্যাপ্টেন নোমি কায়াবায়াব স্থানীয় একটি রেডিওকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৪৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৮ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্য রয়েছেন। দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ ৮৬ জনকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
তবে ফেরিটিতে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের পর কীভাবে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল এবং যাত্রীদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও কাজ করছে।
প্রায় ৭ হাজার ১০০ দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফিলিপাইনে এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ফেরি। তুলনামূলক কম খরচে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য দেশটিতে আন্তঃদ্বীপ নৌযান ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। অনেক দ্বীপে সরাসরি আকাশপথের যোগাযোগ না থাকায় স্থানীয় মানুষের জন্য ফেরি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
মতামত দিন