Views Bangladesh Logo

গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি

গ্রাহকদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করতে হবে

ত কয়েক বছরে গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পানির দাম দফায় দফায় বৃদ্ধির কারণে প্রতিটি পরিবারের খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ। এ অবস্থায় নতুন করে আবারও বাড়ানো হলো গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম। স্বভাবতই চিন্তিত সব শ্রেণির ভোক্তা ও শিল্পোদ্যোক্তারা। কারণ গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি মানেই আবার মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেয়া। ফলে নিম্ন আয়ের সাধারণ নাগরিকরা আবার দুর্মূল্যের জাঁতাকলে পিষ্ট হবে। এমনিতেই জীবনযাত্রায় আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ বিপাকে আছে।

আজ বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যমতে, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৭৫ পয়সা বাড়িয়েছে। নতুন এ দাম ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর হবে। আবার বিপুল ভর্তুকির চাপ সামলাতে রোজা এবং গ্রীষ্মকাল আসার আগেই বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ৩৪ থেকে ৭০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বিদ্যুতের দামের বিষয়টি কার্যকর করা হবে।

গ্যাসের দাম বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই পণ্য ও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যার চাপ চূড়ান্তভাবে গিয়ে পড়বে ক্রেতার কাঁধে। কারণ ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে টাকা তুলে নেবেন। বরং গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম যতটা বেড়েছে, সে তুলনায় পণ্যের দাম বাড়বে অনেক বেশি।

গবেষকরা মনে করেন, সরকার দেশের অর্থনৈতিক সংকট সামাল দিতে চায়। তাই ভর্তুকি কমাতে শিল্প খাতের গ্যাসের দাম এভাবে বাড়ানো হয়েছে। সরকারের কাছে ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করা। কারণ সরকার অনেক আগে থেকেই ব্যবসায়ীদের পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করতে পারছিল না।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অবশ্য মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, এ মুহূর্তে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি অযৌক্তিক। আবার কারও মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে দাম সমন্বয় করতে হবে। ফলে সরকার যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করতে চায়, তাহলে অবশ্যই গ্যাস আমদানি করতে হবে। কারণ গ্যাস আমদানি করা ছাড়া এ মুহূর্তে সরকারের কাছে অন্য কোনো উপায় নেই।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম কমেছে। এ অবস্থায় সরকার গ্যাস আমদানি করে চাহিদার জোগান দিতে পারে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের জন্য আমদানি করতে হবে। অথচ আমদানির জন্য দরকার পর্যাপ্ত ডলার। সেটি কিন্তু নেই। এ অবস্থায় গ্যাসের দাম কয়েক গুণ বাড়ানোর পর গ্যাস সরবরাহ করতে না পারলে ব্যবসায়ীরা উৎপাদন করবেন কীভাবে? এতে প্রকৃত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। দাম বাড়িয়ে সুফল তখনই পাওয়া যাবে, যখন গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন হবে।

আমাদের দেশের অর্থনীতি রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। সেখানে ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলো বিভিন্ন ধরনের উৎপাদনে জড়িত। বর্তমানের বৈশ্বিক মন্দায় পণ্যের চাহিদা কম। এ অবস্থায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে বৈশ্বিক বাজারে আমাদের রপ্তানি পণ্যের চাহিদা আরও কমে যাবে। তাতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।


এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা রপ্তানিনির্ভর পণ্য বানাতে পারব কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। তাই বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম কমে গেলে আমাদের বাজারেও তা সমন্বয় করা উচিত। যদিও এ দেশে একবার কোনো কিছুর দাম বাড়লে তা আর কমে না।

এ প্রসঙ্গে বলা যায়, দেশে নতুন যেসব গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে কিন্তু উত্তোলন শুরু হয়নি, সেগুলো থেকে উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। তা ছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া খনি ও কূপগুলোর আরও গভীরে অনুসন্ধান করা যেতে পারে। আবার গ্যাস খাতের চুরি ও অপচয় কমিয়ে এনে রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব। এটি যত দ্রুত করা সম্ভব হবে, দেশের জন্য ততই মঙ্গল। এতে অর্থনীতির ওপর যে মূল্যস্ফীতির চাপ রয়েছে, তা অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, ভোক্তা মহলে আগে থেকেই গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতকে কেন্দ্র করে অস্বচ্ছতা, দুর্নীতি ও অনিয়মের অনেক অভিযোগ রয়েছে। সেই বিষয়গুলোকেও আমলে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে না। মূল্যস্ফীতিও বাড়বে না।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ