মিনায় জামারাতে পাথর নিক্ষেপ, সম্পন্ন হলো হজের প্রধান আয়োজন
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার অদূরে মিনায় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের হজের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা।
বুধবার (২৭ মে) ভোর থেকেই লাখো হাজি মিনার জামারাত এলাকায় জড়ো হয়ে শয়তানের প্রতীক তিনটি কংক্রিটের স্তম্ভে নুড়ি নিক্ষেপ করেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই ঘটনার স্মরণে পালন করা হয়, যখন শয়তান তাঁকে আল্লাহর আদেশ পালন থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করেছিল। হজের এই গুরুত্বপূর্ণ রীতি পালন করতে সকাল থেকেই মিনায় হাজিদের ঢল নামে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নেয়। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও মুসল্লিরা ধৈর্য ও ধর্মীয় আবেগ নিয়ে আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন।
এর আগে মঙ্গলবার হাজিরা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন, যা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। সেখানে তারা দোয়া, ইবাদত ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনায় সময় কাটান। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এখানেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। এ সময় তাপমাত্রা প্রায় ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
আরাফাত থেকে হাজিরা মুজদালিফায় যান এবং খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান। সেখান থেকেই তারা শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য নুড়ি সংগ্রহ করেন। পরে মিনায় ফিরে এসে তিনটি জামারাতে পর্যায়ক্রমে পাথর নিক্ষেপ করেন।
এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৭ লাখের বেশি মুসল্লি হজে অংশ নিয়েছেন। তবে চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনার কারণে এবারের হজও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের আবহে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবশেষে হাজিরা মক্কায় ফিরে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করেন, যা হজের সমাপনী আনুষ্ঠানিকতার অংশ। হজের এই শেষ সময়টি ঈদুল আজহার উৎসবের সঙ্গেও মিলিত হয়েছে, ফলে সৌদি আরবজুড়ে ধর্মীয় আবেগ ও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্র : ডন

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে