বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই ৩ লাল কার্ড, কে এই রেফারি!
ঐতিহাসিক এস্তাদিও আসতেকা স্টেডিয়ামে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তা ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠল ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের। স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচটিতে ৩টি লাল কার্ড দেখিয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ ইতিহাস গড়লেন ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলটন সাম্পাইও।
টুর্নামেন্টের এই জমকালো উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে মেক্সিকো। তবে স্বাগতিকদের এই জয় ছাপিয়ে এখন ফুটবল বিশ্বে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে রেফারির কঠোর সব শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত, যার ফলে দুই দলকেই ম্যাচ শেষ করতে হয়েছে কম সংখ্যক খেলোয়াড় নিয়ে।
ম্যাচের শুরুটা মেক্সিকোর জন্য বেশ দারুণ ছিল। খেলার ঠিক ৯ম মিনিটেই হুলিয়ান কুইনোনেসের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) বা 'ভিএআর'-এর সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনার পর গোলটির বৈধতা দেওয়া হয়। তবে প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মেক্সিকোর হাতে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যায় রেফারি সাম্পাইওয়ের কঠোর বাঁশির কারণে।
খেলার ৪৯তম মিনিটে মেক্সিকোর নিশ্চিত গোলের সুযোগ নসাৎ করে দেওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার স্পেলেলে সিথোলেকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে প্রথম ধাক্কাটি খায় আফ্রিকান দলটি। এরপর ৮৩তম মিনিটে তাদের বিপদ আরও বাড়ে, যখন প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে আঘাত করার অপরাধে ‘ভিএআর’ রিভিউয়ের পর থেম্বা জোয়ানকে দ্বিতীয় লাল কার্ড দেখানো হয়।
ম্যাচের উত্তেজনা চরম সীমায় পৌঁছায় অতিরিক্ত সময়ে (স্টপেজ টাইম)। দক্ষিণ আফ্রিকার একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ ফাউল করে আটকে দেওয়ায় মেক্সিকোর অধিনায়ক সিজার মন্তেসকে ম্যাচের তৃতীয় লাল কার্ডটি দেখান রেফারি।
বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এই নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো কোনো একক ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখার ঘটনা ঘটল। কাকতালীয়ভাবে, এর আগের ঘটনাটিতেও জড়িয়ে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার নাম। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে এমন কাণ্ড ঘটেছিল, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা একটি এবং ডেনমার্ক দুটি লাল কার্ড পেয়েছিল।
উদ্বোধনী ম্যাচের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলায় রেফারি হিসেবে উইলটন সাম্পাইও-এর নিয়োগ নিয়ে আগে থেকেই ফুটবল মহলে গুঞ্জন ছিল, যার কারণ তার অতীত বিতর্কিত ট্র্যাক রেকর্ড। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড বনাম ফ্রান্সের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে পেনাল্টির আবেদন নাকচ করা এবং বেশ কিছু ফাউলের বিরুদ্ধে কার্ড না দেখানোর কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান রেফারি। এছাড়া ওই একই বিশ্বকাপে পোল্যান্ড বনাম সৌদি আরব ম্যাচেও তার কিছু 'ভিএআর' সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

মতামত দিন