বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেরা তরুণ একাদশ
বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে, কিন্তু এই টুর্নামেন্ট আমাদের শুধু চ্যাম্পিয়নই দেয়নি; দিয়েছে আগামী এক দশকের ফুটবলকে শাসন করতে পারে এমন একদল অসাধারণ তরুণ ফুটবলার। অনেক অভিজ্ঞ তারকার পাশাপাশি ১৭ থেকে ২৩ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। গতি, সাহস, টেকনিক, ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধিমত্তা এবং ম্যাচের চাপ সামলানোর ক্ষমতা, সবকিছু মিলিয়ে তারা প্রমাণ করেছে, বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিরাপদ হাতে রয়েছে।
৪-৩-৩ ফরমেশনে গড়া তরুণ খেলোয়াড়দের একাদশ কেমন হতে পারে:
গোলরক্ষক
প্যাট্রিক বিচ:
বয়স: ২২ বছর
দেশ: অস্ট্রেলিয়া
ক্লাব: মেলবোর্ন সিটি (ট্রয়েস)
উচ্চতা: ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি
অস্ট্রেলিয়ার তরুণ গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অত্যন্ত চমৎকার ও প্রশংসনীয় খেলা উপহার দিয়েছেন। কোচ টনি পপোভিচের আস্থার প্রতিদান দিয়ে তিনি অভিজ্ঞ ম্যাথু রায়ানকে পেছনে ফেলে দলের মূল গোলরক্ষক হিসেবে খেলেন এবং দুর্দান্ত সব সেভ করে অস্ট্রেলিয়াকে নকআউট পর্বে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন। প্রথম ম্যাচে তুরস্কের বিরুদ্ধে ৮টি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ২-০ গোলের জয় এনে দেন এবং ম্যাচসেরা হন। প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে কোন গোল হজম করেননি এবং পুরো গ্রুপ পর্বে অসাধারণ রিফ্লেক্স ও দৃঢ়তা দেখিয়ে গোলমুখ অক্ষুণ্ণ রাখতে সাহায্য করেন। নকআউটের দ্বিতীয় রাউন্ডে মিশরের বিপক্ষেও দারুণ একটি সেভ করেন, তবে টাইব্রেকারের ঠিক আগমুহূর্তে কোচ তাকে পরিবর্তন করায় তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সব মিলিয়ে তিনি বিশ্বকাপে ৪টি ম্যাচ খেলে সর্বমোট ১৪টি সেভ করেছেন।
রাইট উইং-ব্যাক
অ্যালেক্স ফ্রিম্যান:
বয়স: ২১ বছর
দেশ: যুক্তরাষ্ট্র
ক্লাব: ভিয়ারিয়াল
উচ্চতা: ৬ ফুট ২ ইঞ্চি
ডান প্রান্তে অ্যালেক্স ফ্রিম্যান ছিলেন এক কথায় পাওয়ারহাউস। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণে উঠে আসা, ক্রস করা এবং গতি দিয়ে প্রতিপক্ষকে ছিন্নভিন্ন করার অসাধারণ ক্ষমতা দেখিয়েছেন। আধুনিক ফুল-ব্যাকের সব গুণই রয়েছে তার মধ্যে। স্বাগতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে তিনি ৫ ম্যাচে মোট ৩৭৪ মিনিট খেলে ১টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট করেছেন। ৯২% পাসের নিখুঁত হার এবং ১০টি ট্যাকলের মধ্যে ৯০% সফল ট্যাকলসহ তার সামগ্রিক পারফরম্যান্স রেটিং বেশ উঁচুতে ছিল।
সেন্টার-ব্যাক
পাও কুবারসি:
বয়স: ১৯ বছর
দেশ: স্পেন
ক্লাব: বার্সেলোনা
মাত্র ১৯ বছর বয়সে এমন পরিণত ফুটবল খুব কম ডিফেন্ডারই খেলতে পারেন। কুবারসি অসাধারণ পজিশনিং, বল কন্ট্রোল এবং বিল্ড-আপ প্লেতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। তিনি শুধু ডিফেন্ডার নন, আক্রমণ গড়ারও অন্যতম সূচনাকারী। স্পেনের হয়ে অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স করেছেন, যার সুবাদে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ খেলোয়াড় (ফিফা ইয়াং প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড) নির্বাচিত হয়েছেন। টুর্নামেন্টের ৮টি ম্যাচের সবগুলোতে (৭৫০ মিনিট) শুরুর একাদশে খেলেছেন। মোট ৬৬২টি পাস বাড়িয়ে তার মধ্যে ৬৪০টি সফলভাবে সম্পন্ন করেন, যার পাসের নির্ভুলতা ছিল ৯৬%। তিনি ৩৩টি ক্লিয়ারেন্স এবং ৭টি ম্যাচে ক্লিন শিট বজায় রেখে আইমেরিক লাপোর্তের জুটি বেঁধে পুরো বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল হজম করেন।
রেনাতো ভেইগা:
বয়স: ২২ বছর
দেশ: পর্তুগাল
ক্লাব: ভিয়ারিয়াল
উচ্চতা: ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি
উচ্চতা, শক্তি এবং বাতাসে আধিপত্য, সব মিলিয়ে রেনাতো ভেইগা ছিলেন রক্ষণভাগের দেয়াল। তিনি পর্তুগালের খেলা ৫টি ম্যাচের সবকটিতেই শুরুর একাদশে ছিলেন এবং মাঠের প্রতিটি মিনিটেই অবদান রেখেছেন। ৩২৪টি পাসের মধ্যে ৩১১টি সফল পাস দিয়ে ৯৫% পাসিং নিখুঁততা বজায় রাখেন। ৩১টি ক্লিয়ারেন্সের পাশাপাশি ৭টি ডিফেন্সিভ ব্লক, ৩টি ইন্টারসেপশন সহ ২টি ম্যাচে ক্লিন শিট বজায় রাখেন। রাউন্ড অব ১৬-তে স্পেনের বিরুদ্ধে হেরে গেলেও সেই ম্যাচে তিনি ৭টি বল ক্লিয়ারেন্স করেন।
লেফট উইং-ব্যাক
নুনো মেন্দেস:
বয়স: ২৩ বছর
দেশ: পর্তুগাল
ক্লাব: পিএসজি
এই বিশ্বকাপে নুনো মেন্দেস ছিলেন অন্যতম সেরা লেফট-ব্যাক। দুর্দান্ত গতি, নিখুঁত ট্যাকল, আক্রমণে ওভারল্যাপ এবং ডিফেন্সে দৃঢ়তা, সব মিলিয়ে তিনি পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন। তিনি টুর্নামেন্টে পর্তুগালের হয়ে মোট ৫টি ম্যাচ খেলেছেন এবং স্পেনের বিরুদ্ধে রাউন্ড অফ ১৬-তে ইনজুরি হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে ৩৯৮ মিনিট মাঠে ছিলেন। এই আসরে তিনি রক্ষণভাগ সামলানোর পাশাপাশি দলের আক্রমণভাগ তৈরিতেও ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় জয়ের ম্যাচে তিনি দূরপাল্লার একটি চোখ ধাঁধানো ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ১০টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গোল করার সুযোগ তৈরি করেছিলেন। এ ছাড়া উইং ধরে তার গতিময় ড্রিবলিং প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের তটস্থ করে রেখেছিল এবং তার পাসিং সফলতার হার ছিল ৮৭%।
ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার
আইয়ুব বুয়াদ্দি:
বয়স: ১৮ বছর
দেশ: মরক্কো
ক্লাব: লিল
উচ্চতা: ৬ ফুট ১ ইঞ্চি
মাত্র ১৮ বছর বয়সে এত পরিণত ফুটবল সত্যিই বিস্ময়কর। তিনি মিডফিল্ডে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙেছেন, বল কেড়ে নিয়েছেন এবং দ্রুত আক্রমণ শুরু করেছেন। অনেকেই ইতোমধ্যেই তাকে ভবিষ্যতের বিশ্বসেরা মিডফিল্ডারদের একজন হিসেবে দেখছেন। আফ্রিকার প্রথম অনূর্ধ্ব-২০ কিশোর হিসেবে বিশ্বকাপে ৫টি ম্যাচ খেলার নতুন এক রেকর্ড গড়েন তিনি। ৩৮৪ মিনিট মাঠে থেকে তিনি ২৪৩টি পাসের মধ্যে ২২২টি সফল পাস দেন, যেখানে নির্ভুলতার হার ছিল ৯১%। ৭টি ক্লিয়ারেন্স, ৩টি সফল ট্যাকলের সাথে ৪টি সফল ড্রিবলিং করেন। তিনি তার প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের ক্যাসিমিরো ও ব্রুনো গিমারায়েসদের বিপক্ষে একাই মাঝমাঠ আগলে রাখেন। সেই ম্যাচে তিনি মরক্কোর হয়ে সর্বোচ্চ ৮৭ বার বল স্পর্শ করেন, ৫৯টি নিখুঁত পাস দেন এবং মাঝমাঠের গতি নিয়ন্ত্রণ করে সবার নজর কাড়েন। বুয়াদ্দি পেলের পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাসের বুকে নাম লেখান।
বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার
পেদ্রি গনসালেস:
বয়স: ২৩ বছর
দেশ: স্পেন
ক্লাব: বার্সেলোনা
পেদ্রির খেলার সৌন্দর্য হলো তার সরলতা। তিনি কখন গতি বাড়াবেন, কখন খেলা ধীর করবেন এবং কোথায় পাস দেবেন, সবকিছুই অসাধারণভাবে বোঝেন। প্রতিভাবান এই মিডফিল্ডার স্পেনের বিশ্বজয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পুরো আসরে মোট ৮টি ম্যাচে ৫০৪ মিনিট মাঠে উপস্থিত ছিলেন। টুর্নামেন্ট জুড়ে তিনি কোনো গোল বা সরাসরি অ্যাসিস্ট করতে না পারলেও অত্যন্ত নিখুঁত পাসিং দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন, যেখানে তার সর্বমোট ৪৩২টি পাসের মধ্যে ৩৮৮টি পাসই সফল ছিল এবং যার পাসিং সফলতার হার প্রায় ৮৯%। মাঝমাঠ থেকে স্পেনের আক্রমণগুলোকে সচল করতে তিনি আসরে ১১টি প্রধান সুযোগ তৈরি করেছেন এবং প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে সফলভাবে বল পাঠিয়েছেন। শুধু আক্রমণভাগেই নয়, রক্ষণেও পেদ্রি দারুণ অবদান রেখেছেন। তিনি আসরে মোট ৫১টি বল প্রতিপক্ষের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছেন, যা ছিল স্প্যানিশ দলের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
জুড বেলিংহ্যাম:
বয়স: ২৩ বছর
দেশ: ইংল্যান্ড
ক্লাব: রিয়াল মাদ্রিদ
উচ্চতা: ৬ ফুট ১ ইঞ্চি
জুড বেলিংহ্যাম এখন বিশ্বের সবচেয়ে পরিপূর্ণ তরুণ মিডফিল্ডারদের একজন। ডিফেন্স, আক্রমণ, গোল, অ্যাসিস্ট, নেতৃত্ব, সব দিকেই তিনি অসাধারণ। বড় ম্যাচে নিজের প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা তাকে বিশেষ করে তুলেছে। তিনি বিশ্বকাপে এক অবিস্মরণীয়, রেকর্ড-ব্রেকিং এবং ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন। থ্রি লায়ন্সদের হয়ে টুর্নামেন্টে মোট ৮টি ম্যাচ খেলে সর্বমোট ৭টি গোল এবং ১টি অ্যাসিস্ট করেছেন, যা একটি একক বিশ্বকাপে যেকোনো ইংলিশ ফুটবলারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড। আর এসবই তাকে ইংল্যান্ডের ব্রোঞ্জ পদক জয়ের প্রধান নায়কে পরিণত করে। পুরো আসরে তিনি ৬১৭ মিনিট মাঠে ছিলেন এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে একাই তটস্থ রেখে ১৪টি শট অন টার্গেটে রাখার পাশাপাশি ৮৬% নিখুঁত পাসিং রেট বজায় রেখেছিলেন। গ্রুপ পর্ব থেকেই জুড বেলিংহ্যামের এই অতিমানবীয় ফর্মের সূচনা ঘটে, যেখানে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়সূচক গোলটি এবং পানামার বিপক্ষে ৫-১ গোলের বড় জয়ে ১টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট করে তিনি নিজের জাত চেনান। তবে নকআউট পর্বে তার পারফরম্যান্স ছিল আরও বিধ্বংসী ও ম্যাচ-উইনিং। রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে তিনি জোড়া গোল করে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেন। এরপর নরওয়ের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে ইংল্যান্ড যখন ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে, তখন বেলিংহ্যাম আবারও ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়ে দুর্দান্ত এক জোড়া গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয় এনে দেন।
ডান উইং
লামিন ইয়ামাল:
বয়স: ১৯ বছর
দেশ: স্পেন
ক্লাব: বার্সেলোনা
১৯ বছর বয়সেই ইয়ামাল এমন এক ফুটবলার, যাকে থামানো অত্যন্ত কঠিন। ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা, গতি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম সেরা উইঙ্গারে পরিণত করেছে। তিনি বিশ্বকাপে দলের ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ের অভিযানে অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে খেলেছেন। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে পেশির ইনজুরির কারণে প্রায় আট সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকায় শতভাগ ফিটনেস নিয়ে তিনি বিশ্বমঞ্চে আসতে পারেননি, যার ফলে স্পেনের প্রধান কোচ লা ফুয়েন্তে কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম গ্রুপ ম্যাচে তাকে শুরুর একাদশে না রেখে মাত্র ২০ মিনিটের জন্য বদলি হিসেবে মাঠে নামিয়েছিলেন। তবে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ও একমাত্র গোলটি করেন তিনি, যা তাকে ১৮ বছর ৩৪৩ দিন বয়সে স্পেনের ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ গোলদাতার মর্যাদা এনে দেয়। এরপর থেকে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোর প্রতিটিতেই তিনি স্পেনের শুরুর একাদশের অপরিহার্য অংশ হয়ে ওঠেন এবং পুরো আসরে মোট ৮টি ম্যাচে ৬১৬ মিনিট মাঠে কাটান। টুর্নামেন্টিতে তিনি সরাসরি কোনো অ্যাসিস্ট করতে না পারলেও ডান প্রান্ত ধরে বাম পায়ে করা তার অতিমানবীয় ড্রিবলিং, গতি এবং আক্রমণাত্মক পাসিং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য সবসময় আতঙ্কের কারণ ছিল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বকাপে তিনি মোট ১৭টি শট নেন যার মধ্যে ১১টি শটই ছিল অন-টার্গেট, পাশাপাশি তিনি ১০টি সফল ড্রিবলিং সম্পন্ন করেন এবং মাঝমাঠ থেকে সতীর্থদের জন্য ৬টি বড় গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। তার পাসিং নিখুঁততার হার ছিল প্রায় ৮৭%, যেখানে ২৫৬টি পাসের মধ্যে ২২৩টি সফল পাস সম্পন্ন করেন এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করে রক্ষণে সাহায্য করতে ৫টি ইন্টারসেপশন ও ১১টি সফল ট্যাকল করেন। পরিশেষে নিজের ১৯তম জন্মদিনের ঠিক পরদিনই জাতীয় দলের ১৯ নম্বর জার্সি পরে ১৯ জুলাই বিশ্বকাপ জয় করে তিন '১৯'-এর এক অদ্ভুত কাকতালীয় ও রূপকথার মতো ইতিহাস গড়েছেন এই বার্সেলোনা তারকা।
বাম উইং
দেজিরে দুয়ে:
বয়স: ২১ বছর
দেশ: ফ্রান্স
ক্লাব: পিএসজি
ফ্রান্সের ২১ বছর বয়সী প্রতিভাবান উইঙ্গার ও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার দেজিরে দুয়ে ফিফা বিশ্বকাপে দলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান অস্ত্র এবং অত্যন্ত দুর্দান্ত পারফর্মার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। পিএসজির এই তরুণ তারকা টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের হয়ে মোট ৮টি ম্যাচ খেলেছেন যার মধ্যে ৪টি ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন এবং ৪টি ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে সর্বমোট ৪০২ মিনিট মাঠে অবদান রেখেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি দলের উইং এবং মাঝমাঠের গতি বাড়াতে ১টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি মোট ১২টি গোলের বড় সুযোগ তৈরি করেছিলেন। আসর জুড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণব্যূহ ভাঙতে তিনি দারুণ ড্রিবলিং ও নিখুঁত পাসের প্রদর্শনী দেখান যেখানে তার পাসিং নিখুঁততার হার ছিল ৮৬%, কারণ ১৯৯টি পাসের মধ্যে ১৭২টি পাসই সফল ছিল। নরওয়ের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দর্শনীয় হেডের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি করেন এবং দলকে ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় এনে দেন। নকআউট পর্বেও তার এই চমৎকার ফর্ম অব্যাহত ছিল বিশেষ করে মরক্কোর বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে যেখানে তিনি শুরু থেকে ৭৭ মিনিট মাঠে থেকে দুর্দান্ত খেলে ১টি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসিস্ট করেন এবং দলকে ২-০ গোলে সেমিফাইনালে তুলতে বড় অবদান রাখেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও তিনি প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিট মাঠে থেকে ২০টি নিখুঁত পাস দেন। এই বিশ্বকাপে তিনি মোট ৯টি শট নেন যার মধ্যে ৮টি শটই ছিল অন-টার্গেট এবং রক্ষণে সাহায্য করতে ৯টি সফল ট্যাকল ও ৫টি ইন্টারসেপশন করে এক দুর্দান্ত টুর্নামেন্ট পার করেন।
সেন্টার ফরোয়ার্ড
ব্র্যাডলি বারকোলো
বয়স: ২৩ বছর
দেশ: ফ্রান্স
ক্লাব: পিএসজি
উচ্চতা: ৬ ফুট
টুর্নামেন্টে তিনি মূলত লেফট বা রাইট উইঙ্গার হিসেবে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙার গুরুদায়িত্ব পালন করলেও ৮টি ম্যাচের সবকটিতেই অংশ নিয়ে সর্বমোট ৩টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট করার কারণে তাকে সেন্টার ফরওয়ার্ড হিসেবে এই দলে রাখা হয়েছে। দুয়ের সঙ্গে তার খেলার প্রায় মিল রয়েছে এবং ক্লাব দল পিএসজিতে তারা দুজন একই পজিশনে অদল বদল করে খেলেন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ৩৮৭ মিনিট মাঠে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে তার গতিময় ড্রিবলিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শকদের দারুণ আনন্দ দিয়েছে। আসর জুড়ে প্রতিপক্ষের গোলমুখে ৯টি শট নিয়ে তিনি ৬টি শটই অন-টার্গেটে রাখতে সক্ষম হন এবং সতীর্থদের গোল করার জন্য ৭টি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেন। শুধু আক্রমণে নয়, রক্ষণভাগকে সাহায্য করতেও তিনি দারুণ অবদান রাখেন, যেখানে টুর্নামেন্টে তিনি ৫টি সফল ট্যাকল ও ৫টি ইন্টারসেপশন সম্পন্ন করেন এবং তার সামগ্রিক পাসিং নিখুঁততার হার ছিল ৮৭%।
বদলি খেলোয়াড়
গোলরক্ষক:
* বার্ট ভারব্রুগেন (২৩ বছর – নেদারল্যান্ডস)
রাইট উইং-ব্যাক
* গুয়েলা দুয়ে (২৩ বছর – আইভরি কোস্ট): ৬ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার এই খেলোয়াড় প্রয়োজনে ফ্রিম্যানের সঙ্গে সেন্টার-ব্যাক হিসেবেও খেলতে পারবেন।
সেন্টার-ব্যাক
* আবদুকোদির খুসানোভ (২২ বছর – উজবেকিস্তান)
* লুকা ভুস্কোভিচ (১৯ বছর – ক্রোয়েশিয়া)
লেফট উইং-ব্যাক
* নিকো ও'রাইলি (২১ বছর – ইংল্যান্ড): সেন্টার-ব্যাক পজিশনটি তুলনামূলক দুর্বল হওয়ায় ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার ও'রাইলি প্রয়োজনে সেন্টার-ব্যাক হিসেবেও খেলবেন।
* সিডনি লোপেস কাবরাল (২৩ বছর – কেপ ভার্দে): তিনি ফুল-ব্যাক হিসেবে ডান বাম দুই প্রান্তেই খেলতে পারেন।
ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার
* জোয়াও নেভেস (২১ বছর – পর্তুগাল)
* নোয়া সাদিকি (২১ বছর – কঙ্গো)
অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার
* এলিয়ট অ্যান্ডারসন (২৩ বছর – ইংল্যান্ড)
* ইয়াসিন আয়ারি (২২ বছর – সুইডেন)
* পেতার সুচিচ (২২ বছর – ক্রোয়েশিয়া)
* মার্টিন বাতুরিনা (২৩ বছর – ক্রোয়েশিয়া)
ডান পায়ের উইঙ্গার
* আন্তোনিও নুসা (২১ বছর – নরওয়ে)
* হুলিও এনসিসো (২২ বছর – প্যারাগুয়ে)
বাম পায়ের উইঙ্গার
* আমাদ দিয়ালো (২৩ বছর – আইভরি কোস্ট)
* আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ (২২ বছর – নরওয়ে)
ফলস নাইন ও স্ট্রাইকার
* ইয়োহান মানজাম্বি (২০ বছর – সুইজারল্যান্ড)
* ইব্রাহিম এমবায়ে (১৮ বছর – সেনেগাল)
মতামত দিন