২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪ দলের প্রস্তাব পর্যালোচনা করবে ফিফা: জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
ফুটবল বিশ্বকাপকে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৬৪-এ উন্নীত করার প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হবে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুউইন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ফিফার সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করবে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে বর্তমানে চালু থাকা ৪৮ দলের ফরম্যাটের তুলনায় আরও ১৬টি অতিরিক্ত দলের জন্য সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।
ইনফান্তিনোর মতে, বিশ্বকাপ কেবল ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং বিশ্বের প্রতিটি দেশেরই এই আসরে খেলার স্বপ্ন দেখার অধিকার রয়েছে। ছোট ও উদীয়মান ফুটবল জাতিগুলোকে বিশ্বমঞ্চে খেলার সুযোগ দিলে তারা দীর্ঘমেয়াদে ফুটবল উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগ ও আগ্রহী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফিফা সভাপতি বলেন, চলমান ৪৮ দলের বিশ্বকাপ ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে যে সম্প্রসারিত আসর প্রতিযোগিতামূলক ও বাণিজ্যিক—উভয় দিক থেকেই সফল হতে পারে। তাঁর দাবি, এবারের আসরে বিভিন্ন মহাদেশের অনেক দল প্রত্যাশার চেয়েও ভালো পারফরম্যান্স করেছে।
৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের ধারণাটি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসে ২০২৫ সালের মার্চে। তখন ফিফা কাউন্সিলে উরুগুয়ের প্রতিনিধি ইগনাসিও আলোনসো এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো ডোমিঙ্গেজও এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে ৬৪ দলের টুর্নামেন্ট আয়োজন হলে সেটি হবে একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন।
বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ২০৩০ সালের আসর হবে ছয়টি দেশে এবং তিনটি মহাদেশে। সূচনা ম্যাচ আয়োজন করবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। এরপর টুর্নামেন্টের মূল পর্বের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোয়। ৬৪ দলের প্রস্তাব অনুমোদন পেলে দক্ষিণ আমেরিকার তিন স্বাগতিক দেশ কেবল উদ্বোধনী ম্যাচ নয়, গ্রুপ পর্বের আরও বেশি ম্যাচ আয়োজনের দাবি তুলতে পারে।
তবে প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ফুটবল অঙ্গনে সমালোচনার মুখে পড়েছে। উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিন এই পরিকল্পনাকে "খারাপ ধারণা" বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এতে বিশ্বকাপের মর্যাদা কমে যাবে এবং বাছাইপর্বের গুরুত্বও হ্রাস পাবে। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফের সভাপতি ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানিও।
মতামত দিন