সমালোচনার মুখেও বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যুর মাঠ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ফিফা
ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচের আগে স্টেডিয়ামের অস্থায়ী প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠ নিয়ে শুরুতে নানা সমালোচনা হলেও এখন মাঠের মান নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ও আত্মবিশ্বাসী ফিফা।
৮২ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতার মেটলাইফ স্টেডিয়াম মূলত এনএফএলের নিউইয়র্ক জায়ান্টস ও নিউইয়র্ক জেটসের হোম ভেন্যু। এখানে সাধারণত কৃত্রিম টার্ফ ব্যবহার করা হয়। তবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে অত্যাধুনিক প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠ তৈরি করেছে ফিফা। এতে স্বয়ংক্রিয় সেচব্যবস্থা, ভ্যাকুয়াম বায়ু চলাচল প্রযুক্তি এবং উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।
তবে জুনে টুর্নামেন্ট শুরুর পরই মাঠের অবস্থা নিয়ে অভিযোগ ওঠে। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচের পর ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বলেন, শুকনো ও ধীরগতির মাঠে তাদের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন রাবিও মাঠটিকে ‘কঠিন ও কংক্রিটের মতো’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন।
ফিফার সিনিয়র পিচ ম্যানেজমেন্ট ম্যানেজার অ্যালান ফার্গুসন জানান, টুর্নামেন্টের শুরুতে যে সমস্যাগুলো দেখা দিয়েছিল, তা ছিল আবহাওয়াজনিত। পুরো বিশ্বকাপজুড়ে ঘাসের মান ঠিক রাখতে শীতপ্রধান অঞ্চলের ঘাসের পরিবর্তে উষ্ণ আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠা বারমুডা ঘাস ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু জুনের প্রথম দুই সপ্তাহে নিউ জার্সিতে অস্বাভাবিক শীতল আবহাওয়ার কারণে ঘাসের বৃদ্ধি কিছুটা ব্যাহত হয় এবং এর রঙ ও চেহারায় পরিবর্তন আসে। তবে মাঠের খেলার উপযোগিতা কখনোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ঘাসের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে মাঠে বিশেষ শীতকালীন আবরণ ও কৃত্রিম গ্রো লাইট ব্যবহার করা হয়। পরে গ্রীষ্মের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ফিরে আসায় ঘাস দ্রুত পরিপক্ব হয়ে ওঠে।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, টেনেসি ও মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করলে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মাঠ ১৬টি ভেন্যুর মধ্যে পারফরম্যান্সের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। ফাইনালের আগে মাঠের সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে ৫ জুলাই ব্রাজিল-নরওয়ের শেষ ষোলোর ম্যাচের পর থেকে স্টেডিয়ামে আর কোনো ম্যাচ রাখা হয়নি। ফলে প্রায় দুই সপ্তাহ মাঠটি ব্যবহারহীন অবস্থায় পরিচর্যা করা হয়েছে।
এদিকে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অস্থায়ীভাবে উচ্চমানের প্রাকৃতিক ঘাস স্থাপনের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়াঙ্গনেও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এনএফএল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (এনএফএলপিএ) এক বিবৃতিতে বলেছে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্য যখন এই স্টেডিয়ামগুলোতে উন্নতমানের প্রাকৃতিক ঘাস ব্যবহার করা সম্ভব, তখন এনএফএলের খেলোয়াড়দের এখনো কেন আঘাতপ্রবণ কৃত্রিম টার্ফে খেলতে বাধ্য করা হচ্ছে, সে প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
স্থানীয় সময় রোববার বিকেল ৩টায় (বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১টা) বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের এই অস্থায়ী প্রাকৃতিক ঘাস তুলে ফেলা হবে। এরপর আগস্টে শুরু হওয়া এনএফএল প্রাক-মৌসুমের আগে আবারও স্টেডিয়ামটিকে কৃত্রিম টার্ফে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
মতামত দিন