Views Bangladesh Logo

রেকর্ড আয়ের পথে ২০২৬ বিশ্বকাপ, ১০ বিলিয়ন ডলারের দ্বারপ্রান্তে ফিফা

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো আয়োজিত এই আসর থেকে প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা আয় হতে পারে। বাস্তবায়িত হলে এটি হবে বিশ্বের ক্রীড়া ইতিহাসে কোনো একক আসর থেকে সর্বোচ্চ আয়।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় হয়েছিল ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। চার বছরের ব্যবধানে সেই অঙ্ক প্রায় দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েই উত্তর আমেরিকার বিশাল বাণিজ্যিক বাজারকে কাজে লাগিয়েছে সংস্থাটি। এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিয়েছে। ম্যাচের সংখ্যাও আগের ৬৪ থেকে বেড়ে ১০৪টিতে পৌঁছেছে। রোববার স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই আসর। ফিফার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের আয় প্যারিস অলিম্পিক ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সম্মিলিত আয়ের তুলনায়ও অনেক বেশি।

টিকিট বিক্রি ও আতিথেয়তা খাত থেকেই এবার প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ১০৪ ম্যাচের মধ্যে ৭৮টি হওয়ায় প্রিমিয়াম টিকিট বাজারের সুবিধা পেয়েছে ফিফা। ইতোমধ্যে স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতি ৬০ লাখ ছাড়িয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো ডায়নামিক টিকিট মূল্য নির্ধারণ এবং ফিফার নিজস্ব পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মে প্রতিটি টিকিট পুনর্বিক্রয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই ১৫ শতাংশ করে কমিশন নিচ্ছে ফিফা।

বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব থেকেও রেকর্ড আয় হচ্ছে সংস্থাটির। দীর্ঘদিনের অংশীদার অ্যাডিডাস, কোকা-কোলা, ভিসা, আরামকো ও হুন্দাই ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অব আমেরিকা ও ম্যাকডোনাল্ডস বিশ্বকাপভিত্তিক চুক্তিতে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া হোম ডিপো ও আমেরিকান এয়ারলাইন্সের মতো প্রতিষ্ঠানও বড় অঙ্কের স্পন্সরশিপ দিয়েছে।

সম্প্রচারস্বত্বও ফিফার সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস হিসেবে রয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৬ চক্রে এই খাত থেকে প্রায় ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউরোপে সম্প্রচারসংক্রান্ত বিধিনিষেধ থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকায় দর্শকসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ফক্স স্পোর্টসের সম্প্রচারে প্রায় ৩ কোটি দর্শক বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখেছেন।

তবে ভবিষ্যতে এই বিপুল আয়ের ধারা ধরে রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকেরা। ফিফার অভ্যন্তরীণ আর্থিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৭ থেকে ২০৩০ চক্রে টিকিট ও আতিথেয়তা খাতের আয় প্রায় ৯৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার কমতে পারে। কারণ, ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজক মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেনে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বৃহৎ বাণিজ্যিক বাজার নেই। এই ঘাটতি মোকাবিলায় ফিফা ইতোমধ্যে নতুন কৌশল নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সম্প্রসারিত ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের পাশাপাশি ২০৩০ বিশ্বকাপে দলসংখ্যা ৬৪-এ উন্নীত করার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ