বিশ্বকাপে রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা, চ্যাম্পিয়ন পাবে ৬১৬ কোটি টাকা
ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বেশি প্রাইজমানি পাচ্ছে অংশগ্রহণকারী দলগুলো। আসন্ন ফাইনালকে সামনে রেখে রেকর্ড পুরস্কার অর্থ ঘোষণা করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। শিরোপাজয়ী দল পাবে ৫ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৬১৬ কোটি টাকা।
ক্রীড়াবিষয়ক গণমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বর ফিফা এবারের ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত বিশ্বকাপের জন্য মোট ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার (প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি) প্রাইজমানি ঘোষণা করে। যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
রোববারের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। শিরোপাজয়ী দল পাবে ৫ কোটি ডলার (প্রায় ৬১৬ কোটি টাকা), আর রানার্সআপ দল পাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ৪০৬ কোটি টাকা)।
এর আগে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। বিজয়ী দল পাবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার (প্রায় ৩৫৭ কোটি টাকা) এবং পরাজিত দল পাবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার (প্রায় ৩৩৩ কোটি টাকা)।
কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া মরক্কো, বেলজিয়াম, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড প্রত্যেকেই পাবে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া আটটি দল পাবে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে এবং শেষ ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া ১৬টি দল পাবে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার করে।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের প্রত্যেকটির জন্য ন্যূনতম ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পাবে ৯ লাখ ডলার, পাশাপাশি প্রস্তুতি বাবদ অতিরিক্ত ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার দেওয়া হবে।
ফিফা পুরো প্রাইজমানি সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কাছে হস্তান্তর করবে। পরে ফেডারেশন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের বোনাস নির্ধারণ করবে। বাকি অর্থ সাধারণত তৃণমূল ফুটবল উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করা হয়।
অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হলেও এবারের ৪৮ দলের বিশ্বকাপ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করার পূর্বাভাস দিয়েছে ফিফা। চার বছরের চক্র শেষে সংস্থাটির মোট আয় ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আগের চক্রের ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার আয়ের তুলনায় অনেক বেশি।
প্রাইজমানির সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে চ্যাম্পিয়ন দলের পুরস্কারে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। এবার চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫ কোটি ডলার, অর্থাৎ আগের চেয়ে ৮০ লাখ ডলার বেশি। রানার্সআপ দলও আগের আসরের তুলনায় ৩০ লাখ ডলার বেশি পুরস্কার পাবে।
এদিকে ফাইনাল শেষে চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের হাতে ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক তুলে দেওয়া হবে। রানার্সআপ দল পাবে রৌপ্যপদক এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ব্রোঞ্জপদক।
এ ছাড়া টুর্নামেন্ট শেষে সেরা খেলোয়াড়কে গোল্ডেন বল, সেরা গোলরক্ষককে গোল্ডেন গ্লাভস এবং সর্বোচ্চ গোলদাতাকে গোল্ডেন বুট দেওয়া হবে। তবে এসব ব্যক্তিগত পুরস্কারের সঙ্গে অতিরিক্ত কোনো অর্থ প্রদান করা হবে না।
মতামত দিন