নারীবাদী আন্দোলনের বিশ্বখ্যাত নেত্রী গ্লোরিয়া স্টেইনেম আর নেই
যুক্তরাষ্ট্রের নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ, সাংবাদিক ও নারীবাদী কর্মী গ্লোরিয়া স্টেইনেম মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। স্টেইনেমের ফাউন্ডেশনের বরাতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিবিসি জানিয়েছে, নিউইয়র্ক সিটির নিজ বাড়িতে স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে তাঁর মৃত্যু হয়।
নারীর সমঅধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে সোচ্চার ছিলেন স্টেইনেম। লেখক ও ম্যাগাজিন সম্পাদক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এই মার্কিন নারী ১৯৭০-এর দশকে নারী মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা ‘উইমেনস অ্যাকশন অ্যালায়েন্স’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন তিনি।
১৯৭২ সালে স্টেইনেম ‘মিস’ ম্যাগাজিনের সহপ্রতিষ্ঠা করেন। সে সময়ের প্রচলিত নারীবিষয়ক প্রকাশনাগুলোর তুলনায় এটি ছিল ব্যতিক্রমী। গৃহস্থালি ও সৌন্দর্যের মতো প্রচলিত বিষয় ছাড়িয়ে নারীর অধিকার, বৈষম্য এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুকে গুরুত্ব দেওয়ায় ম্যাগাজিনটি দ্রুত আলোচনায় আসে।
নারীর প্রজনন অধিকার, সমকামীদের বিয়ে বৈধ করা, সমান মজুরি ও সমঅধিকারসহ বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে সক্রিয় ছিলেন স্টেইনেম। মৃত্যুদণ্ড এবং নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতির বিরুদ্ধেও তিনি কথা বলেছেন।
২২ বছর বয়সে লন্ডনে অবৈধভাবে গর্ভপাত করিয়েছিলেন স্টেইনেম। পরে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠাকারী ১৯৭৩ সালের ‘রো বনাম ওয়েড’ রায়ের প্রতি সমর্থন জানান। জীবনের শেষদিকে ঐতিহাসিক সেই রায় বাতিল হওয়ার ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেন তিনি।
১৯৩৪ সালের ২৫ মার্চ ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলিডোয় জন্মগ্রহণ করেন স্টেইনেম। তাঁর শৈশব ছিল কঠিন। ১২ বছর বয়সের আগে তিনি নিয়মিত স্কুলে পড়াশোনার সুযোগ পাননি। বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে ১৯৫০-এর দশকের শেষ দিকে গবেষণা বৃত্তি নিয়ে ভারতে যান। সেখানে দুই বছর বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের সরকারি নীতির বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলনে সংগঠিত হতে সহায়তা করেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর তৃণমূলভিত্তিক সামাজিক আন্দোলনের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।
১৯৬০-এর দশকের শুরুতে নিউইয়র্কে ফিরে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। প্লেবয় ক্লাবের কর্মীদের কাজের পরিবেশ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তাঁকে পরিচিতি এনে দেয়। পরে নিউইয়র্ক ম্যাগাজিন-এর কলামিস্ট হন।
মতামত দিন