বিকেল ৩টার পর শরীর ভেঙে পড়ে? ক্লান্তি কমাতে বদলান ৩ অভ্যাস
দুপুরের খাবার খাওয়ার পর দিনের কাজের এখনও অনেকটা বাকি থাকে। কিন্তু বিকেল গড়াতেই হঠাৎ যেন শরীরের সব শক্তি ফুরিয়ে যায়। কাজে মন বসে না, ঝিমুনি আসে, কোনো কিছু করতে ইচ্ছা করে না। অনেকের আবার এই সময় এক কাপ কফি না হলে যেন চলেই না।
প্রতিদিন যদি বিকেল ৩টার দিকে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে একে শুধু অতিরিক্ত কাজের চাপ বা ঘুমের ঘাটতি বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। খাবার থেকে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ঠিকমতো শোষিত না হওয়া, খাবারের ধরন কিংবা দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু অভ্যাসও এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
শরীর খাবার গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই তার শক্তি ব্যবহার করতে পারে না। হজম ও পুষ্টি শোষণের মাধ্যমে খাবারের উপাদান শরীরের কাজে লাগে। তাই হজমের প্রক্রিয়ায় সমস্যা থাকলে পর্যাপ্ত খাবার ও ঘুমের পরও ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক ক্লান্তির পেছনে রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক কারণও থাকতে পারে।
১. খেজুর ও ঘি খেতে পারেন
বিকেলের দুর্বলতা কাটাতে খেজুরের সঙ্গে অল্প পরিমাণ ঘি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। খেজুরে প্রাকৃতিক শর্করা থাকায় এটি দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে। অন্যদিকে ঘিতে থাকা চর্বি তুলনামূলক ধীরে শক্তি সরবরাহে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ঘি উচ্চ ক্যালরিযুক্ত হওয়ায় পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
২. জাফরান মেশানো দুধ
জাফরান মেশানো দুধও অনেকের খাদ্যতালিকায় থাকতে পারে। এক থেকে দুইটি জাফানের আঁশ দুধে মিশিয়ে পান করা যায়। তবে জাফরানকে ক্লান্তি দূর করার প্রমাণিত চিকিৎসা হিসেবে দেখা উচিত নয়। পুষ্টিকর খাবারের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে এটি গ্রহণ করা যেতে পারে।
৩. রাতে দেরিতে ভারী খাবার নয়
ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত ভারী খাবার খেলে হজমের জন্য শরীরকে বেশি সময় কাজ করতে হয়। এতে ঘুমের মান খারাপ হতে পারে এবং পরদিন ঘুম ঘুম ভাব ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। তাই সাধারণভাবে ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার চেষ্টা করা ভালো।
বিকেল হলেই নিয়মিত দুর্বলতা বা ঘুমঘুম ভাব দেখা দিলে শুধু কফি পান করে তা সামাল দেওয়ার চেষ্টা না করে খাবারের ধরন, ঘুমের সময়, শারীরিক পরিশ্রম ও পানি পানের অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পরও যদি দীর্ঘদিন ক্লান্তি থেকে যায়, তাহলে এর কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মতামত দিন