Views Bangladesh Logo

শিশুর হাম হলে যেসব খাবার খাওয়াবেন, যেসব খাওয়াবেন না

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

‘হাম’ অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত একটি রোগ, যা প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে। তবে যেকোনো বয়সেই এটি হতে পারে। বর্তমানে হামে শিশুমৃত্যুর হার আশঙ্কাজনক। হামের ভাইরাস শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। সাধারণত সংক্রমণের প্রায় ১৪ দিন পর উপসর্গ দেখা দেয় এবং মাথা থেকে শরীরের নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার চার দিন আগে থেকে চার দিন পর পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি সংক্রামক থাকেন।

হামের লক্ষণ
হাম হলে প্রচণ্ড জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং চ্যাপ্টা লাল দাগের মতো ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা পরে একত্রে উঁচু হয়ে উঠতে পারে।

যা খাওয়াতে হবে
হাম থেকে দ্রুত সেরে উঠতে সুষম পুষ্টি ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে কমলা ও লেবুর মতো ফলের রস দেওয়া উচিত, কারণ তখন ক্ষুধামান্দ্য থাকে এবং এসব রস রুচি বাড়াতে সহায়তা করে। ধীরে ধীরে প্রচুর সবুজ শাকসবজি ও ফলমূলসমৃদ্ধ সুষম খাবার দিতে হবে।

পানিশূন্যতা রোধে প্রচুর তরল পান করানো দরকার। পানি, পানিজাতীয় ফল, শাকসবজি ও স্যুপ এ ক্ষেত্রে কার্যকর। কুসুম গরম তরল খাবার শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতেও সাহায্য করে।

ভিটামিন 'এ' সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ এবং হামের তীব্রতা কমাতে পারে। গাজর, মিষ্টি আলু, পালংশাক ও ব্রকলি এ ক্ষেত্রে উপকারী। শরীর পুনরুদ্ধারের জন্য প্রোটিনও অপরিহার্য। চর্বিহীন মাংস, মুরগি, মাছ, ডিম, দুধজাত খাবার, ডাল ও বাদাম খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জিংকসমৃদ্ধ খাবার যেমন লাল মাংস, শিম, বাদাম ও গোটা শস্য উপকারী। এ ছাড়া ভিটামিন 'সি' রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। লেবুজাতীয় ফল, স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম ও কিউই খাদ্যতালিকায় যোগ করা যেতে পারে।

যেসব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে

চিনিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে সেরে উঠতে দেরি করায়। চর্বিযুক্ত ও ভাজা খাবার হজম করা কঠিন এবং পরিপাকতন্ত্রের উপসর্গ বাড়িয়ে তুলতে পারে। ঝাল খাবার গলা ও মুখে অস্বস্তি সৃষ্টি করে কাশি ও গলাব্যথা বাড়িয়ে দেয়। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে।

বিশেষ সতর্কতা
‘হাম’ অত্যন্ত সংক্রামক বলে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখতে হবে এবং সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে। শিশুর খাদ্যতালিকা বা উপসর্গ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন। যেকোনো জটিলতায় যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ