পুরান ঢাকায় নিজের গায়ে আগুন দেওয়া প্রবাসীর মৃত্যু, দগ্ধ ৪ জন হাসপাতালে
পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে পারিবারিক কলহের জেরে নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া সৌদি আরবপ্রবাসী ইমন মারা গেছেন। ২৬ বছর বয়সী এই যুবকের শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন সুলতান মাহমুদ।
শনিবার বিকালে সূত্রাপুরের শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকার নিজ বাসায় ইমন নিজের গায়ে আগুন দেন। এ সময় আগুনে পরিবারের আরও চারজন দগ্ধ হন। তারা বর্তমানে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দগ্ধরা হলেন ইমনের বাবা সিদ্দিক বেপারী, চাচাতো ভাই রাজিব, ফুফাতো ভাই আরিফুর রহমান ধলু এবং ফুফাতো বোন তানিয়া আক্তার।
স্বজনদের ভাষ্য, পারিবারিক কলহের জেরে শুক্রবার সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন ইমন। এর পরদিনই তিনি এ ঘটনা ঘটান।
দগ্ধ আরিফুর রহমান ধলুর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার জানান, বাড়িটি তাদের পৈতৃক। শুক্রবার বাসার সামনে ময়লা পানি জমে থাকা নিয়ে ইমনের বোন সুলতানার সঙ্গে তানিয়ার বাগবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি সৌদি আরবে থাকা ইমনকে জানানো হলে তিনি শুক্রবারই দেশে ফেরেন।
সোনিয়ার দাবি, শনিবার বিকালে ইমন পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলার হুমকি দেন। এরপর নিজের ও অন্যদের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
পরে দগ্ধ অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। চিকিৎসক জানিয়েছেন, বর্তমানে চিকিৎসাধীন তানিয়ার শরীরের ৬০ শতাংশ, সিদ্দিকের ৩৫ শতাংশ, রাজিবের ১৫ শতাংশ এবং আরিফুর রহমানের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
দগ্ধদের মধ্যে রাজিব একটি হাসপাতালে মেকানিক হিসেবে কাজ করেন। আরিফুর রহমান পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। আর তানিয়া পুরান ঢাকার একটি উইমেন্স কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী।
মতামত দিন