প্লেজিয়ারিজম বিতর্কের মধ্যে কেমব্রিজের সাবেক অধ্যাপক জেসন আরডের মরদেহ উদ্ধার
প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ ও নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে থাকা কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জেসন আরডের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দক্ষিণ লন্ডনের ব্যাটারসি এলাকায় একটি ঠিকানা থেকে ৪১ বছর বয়সী এই শিক্ষাবিদের অচেতন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
যুক্তরাজ্যের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, আরডের মৃত্যুকে আপাতত অপ্রত্যাশিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে এতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা চলছে।
সমাজবিজ্ঞান ও শিক্ষা বিষয়ে অধ্যাপক হিসেবে কেমব্রিজে দায়িত্ব পালন করছিলেন আরডে। ২০২৩ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির অধ্যাপক নিযুক্ত হন। এর মাধ্যমে কেমব্রিজের অন্যতম কনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। তবে সম্প্রতি গবেষণায় প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ এবং তার একাডেমিক অর্জন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তাকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়।
অভিযোগের সূত্রপাত কেমব্রিজের সাবেক শিক্ষাবিদ নাথান কোফনাসের বিভিন্ন গবেষণাকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর। আরডে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছিলেন। একই সঙ্গে তার পুরোনো একাডেমিক কাজের কিছু ভুলের কথা স্বীকার করলেও ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যের কাজ নকল করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তার পিএইচডি প্রদানকারী লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটিও তার থিসিস নিয়ে তদন্ত করে প্লেজিয়ারিজমের সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
তবে বিতর্ক থামেনি। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় চলতি সপ্তাহে আরডের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্তের ঘোষণা দেয়। এর আগে পদত্যাগের সময় আরডে বলেছিলেন, তাকে ঘিরে প্রকাশ্য সমালোচনা ও নানা অভিযোগ তার ওপর অসহনীয় ব্যক্তিগত চাপ তৈরি করেছিল। তার পরিবারও বলেছে, ভুল তথ্য ছড়িয়ে তাকে ঘিরে যে প্রচারণা চলছিল, তা তার জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছিল।
আরডের বন্ধু ও ব্ল্যাক স্টাডিজের অধ্যাপক কেহিন্ডে অ্যান্ড্রুজ জানিয়েছেন, পদত্যাগের পর আরডে মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি প্রায় বাড়ি থেকে বের হতেন না এবং অনেক ওজন হারিয়েছিলেন বলেও জানান অ্যান্ড্রুজ। এদিকে আরডের পরিবার তাকে একজন কোমল মনের মানুষ হিসেবে স্মরণ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তাঁর মৃত্যু একদিকে যেমন একটি পরিবারকে শোকাহত করেছে, তেমনি একাডেমিক প্রতিষ্ঠানে বিতর্ক, জবাবদিহি ও শিক্ষাবিদদের ওপর চাপের বিষয়টিও নতুন করে সামনে এনেছে।
মতামত দিন