জেলেনস্কিকেই সমর্থন ইউরোপীয় নেতাদের

হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্যে বাগ্বিতণ্ডার পরও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং তার দেশের প্রতি ইউরোপীয় নেতাদের সমর্থনের ঝড় উঠেছে।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলন মার্কিন-ইউক্রেন খনিজ চুক্তিতে স্বাক্ষর করার কথা ছিল ট্রাম্প ও জেলেনস্কির। সেটি বাতিল এবং ওভাল অফিসের বৈঠকে দুজনের মধ্যে নজিরবিহীন উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। জেলেনস্কি বৈঠক ছেড়ে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে জেলেনস্কি ও তার প্রতিনিধিদলকে হোয়াইট হাউস থেকে চলে যেতে বলা হয় বলে জানিয়েছেন ট্রাম্পের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভিট।
এ ঘটনার পর জেলেনস্কির পক্ষ নিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সভাপতি রবার্টা মেটসোলাসহ ইইউভূক্ত বেশিরভাগ দেশ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ রবার্টা মেটসোলা বলেছেন, ‘আপনার মর্যাদা ইউক্রেনীয় জনগণের সাহসিকতাকে সম্মান করে। শক্তিশালী হোন, সাহসী হোন, নির্ভীক হোন। আপনি কখনোই একা নন। আমরা ন্যায়সঙ্গত এবং স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে আপনার সাথে কাজ চালিয়ে যাব’।
জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলজ এক্স-এ পোস্ট করে বলেছেন, ‘ইউক্রেনীয়দের চেয়ে বেশি কেউ শান্তি চায় না। অতএব, আমরা স্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত শান্তির সাধারণ পথে কাজ করছি’।
‘ইউক্রেন জার্মানি এবং ইউরোপের নির্ভর করতে পারে’- বলেন তিনি।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘তিন বছর আগেও আমরা ইউক্রেনকে সাহায্য করা এবং রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও অব্যাহত রাখার বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম’।
যারা শুরু থেকেই লড়াই করে আসছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনেরও আহ্বান জানান ম্যাক্রো।
পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেছেন: ‘প্রিয় ইউক্রেনীয় বন্ধুরা, তোমরা একা নও’।
তার দেশ ‘আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নীতি এবং সম্মানকে সমুন্নত রাখে’- উল্লেখ করে স্লোভেনিয়ার প্রেসিডেন্ট নাতাসা পিরক মুসার বলেন, ‘আজ ওভাল অফিসে আমরা যা দেখেছি, তা এই মূল্যবোধ এবং কূটনীতির ভিত্তিকে ক্ষুণ্ন করে’।
‘আমরা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের সমর্থনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছি। ইউরোপের জন্য ইউক্রেনে শান্তির পথে নেতৃত্ব দেয়ার সময় এসেছে। আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের সনদ, ন্যায্যতা এবং সর্বোপরি ... শালীনতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে’- বলেন তিনি।
চেক প্রধানমন্ত্রী পেত্র ফিয়ালা বলেন, ‘আমরা আগের চেয়েও বেশি ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছি। ইউরোপের প্রচেষ্টা জোরদারের সময় এসেছে’।
ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচ বলেন, ‘ক্রোয়েশিয়া তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে জানে, কেবল ন্যায়সঙ্গত শান্তিই স্থায়ী হতে পারে। ক্রোয়েশিয়ান সরকার তার বিশ্বাসে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে যে, ইউক্রেনের এমন শান্তির প্রয়োজন- এমন একটি শান্তি যার অর্থ সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং নিরাপদ ইউরোপ’।
অন্য ইউরোপীয় নেতারাও একই ধরনের বার্তায় ইউক্রেনকে রক্ষায় আহ্বান জানান। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা, আইরিশ তাওইসিয়েচ মাইকেল মার্টিন, লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিটানাস নৌসেদা, মলদোভার প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্ডু, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোর এবং স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
প্রতিক্রিয়ায় ‘আপনার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ’ পোস্টগুলো উদ্ধৃত করেছেন জেলেনস্কি।
কিন্তু ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। এক্স-এ তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘শান্তির জন্য সাহসের সাথে দাঁড়িয়েছিলেন, এমনকি অনেকের পক্ষে এটি হজম করা কঠিন হলেও’।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে