Views Bangladesh Logo

অনিয়ম-দুর্নীতি-অস্থিরতা দূর করে স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা আনুন

দেশের স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনা-অস্থিরতা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরেই সমালোচনা হয়ে আসছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুই আমলেই স্বাস্থ্য খাত প্রচণ্ড অবহেলার ও দলীয়করণের শিকার হয়েছে। সম্প্রতি আওয়ামী সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর তা আরও প্রকট আকারে দৃশ্যমান হচ্ছে। গতকাল বুধবার (২১ আগস্ট) পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, দলীয় রাজনীতি স্বাস্থ্য খাতকে দুর্বল করেছে। সেবার মান উন্নত করার চেয়ে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছেন ক্ষমতাসীনরা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই সরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা চলছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বাস্থ্য খাতে রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি করবে, নাকি যোগ্য লোক দিয়ে স্বাস্থ্য খাত চালাবে- এ প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। দেশের এক সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়ার কারণে তাদের ওপর জনগণের আশা-ভরসা ছিল অনেক; কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার সর্বক্ষেত্রেই ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রগুলো নিয়ন্ত্রণ করেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)। নিয়োগ বদলিতে প্রভাব রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে ব্যবসাও করেছেন স্বাচিপের নেতারা।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ছিল এর বিপরীত চিত্র। তখন ক্ষমতায় ছিল বিএনপি। স্বাস্থ্য খাতের সব ক্ষেত্রে ছিল ড্যাবের একচ্ছত্র আধিপত্য। ড্যাবের নেতাকর্মীদের দাপটে তখন স্বাচিপ ছিল কোণঠাসা। স্বতন্ত্রদের একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল সেই আমলেও। স্বাচিপ ও ড্যাবের দাপটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা খাত ও চিকিৎসা শিক্ষাব্যবস্থা। এদের গোষ্ঠীস্বার্থ স্বাস্থ্য খাতের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করেছে। জনস্বাস্থ্যবিদরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দলীয় রাজনীতি সেবা খাতকে কতটা দুর্বল করতে পারে, তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ স্বাস্থ্য খাত।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় স্বাস্থ্য খাতে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি থাকা উচিত। স্বাচিপ ও ড্যাবকে সক্রিয় রেখে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার করা সম্ভব হবে না। দেশে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। স্বৈরাচারী সরকারকে হটিয়ে দিয়ে অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জনগণের অনেক প্রত্যাশা। দেশের সমস্ত ব্যবস্থাপনাতেই তারা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনছেন। এর মধ্যেই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে দলীয় কর্তাব্যক্তিরা পরিত্যজ্য হতে শুরু করেছেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে তার ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা চাই চিকিৎসাক্ষেত্রেও বর্তমান সরকার দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী পরিবর্তন আনবে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। বিগত বছরগুলোয় আমরা দেখেছি এ দুটি খাতেই সর্বোচ্চ অবহেলা প্রদর্শন করা হয়েছে। মৌলিক অধিকার থেকে জনসাধারণ বঞ্চিত তো হয়েছেনই, অনেক ক্ষেত্রে তাদের নানারকম হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। সুচিকিৎসা ও সুশিক্ষার বদলে টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

দেশের চিকিৎসা ও শিক্ষা খাত বন্দি হয়ে পড়েছিল বাণিজ্যিক মানসিকতার হাতে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ে সেখানে ব্যক্তিকেই মূল্য দেয়া হয়েছে বেশি। কিছু লোকের সুবিধার্থে গণমানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা চাই এই মানসিকতার দ্রুত পরিবর্তন আসুক। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থার মতো চিকিৎসাব্যবস্থায় বর্তমান সরকারকে সর্বোচ্চ নজর দেয়ার আহ্বান জানাই।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ