দুর্গাপূজার নিরাপত্তা এখনই নিশ্চিত করুন

মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছে বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। আগামী বুধবার (৯ অক্টোবর) পালিত হবে মহাষষ্ঠী, তারপর ধারাবাহিক পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে ১৩ অক্টোবর পালিত হবে বিজয়া দশমী।
গত বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, এর মধ্যেই দুর্গাপূজা উপলক্ষে মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে আসন্ন দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী কী পদক্ষেপ নেয়া হবে, তা জানানো হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, র্যাব, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের টহল জোরদার করা হবে। বাড়ানো হবে গোয়েন্দা নজরদারি। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে কি না, তা কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে জানানো হয়, যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে পূর্বপ্রস্তুতি রাখতে হবে। অপ্রত্যাশিতভাবে কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কোনো বক্তব্য বা গুজব ছড়ানোর বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর মধ্যেই জানা গেছে কিশোরগঞ্জে একটি প্রতিমা ভাঙ্চুর হয়েছে। কে বা কারা সেই প্রতিমা ভাঙচুর করেছে, তা জানা যায়নি। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমনিতেই নাজুক। সাম্প্রতিক সময়ে মাজারে হামলা ও ভাঙ্চুরের কারণে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী এমনিতেই আতঙ্কে আছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে হামলা চালানো হয়েছে সনাতর ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে, মন্দিরে।
তাই আমরা চাই, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা এখনই আরও জোরদার করা হোক। মন্দিরে মন্দিরে বিশেষ পাহারার ব্যবস্থা করা হোক। পূজায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা বিধানে সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ছাত্র-জনতাকে অন্তর্ভুক্ত করে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হোক।
পূজা উপলক্ষে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে দেশের সব সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকতে হবে। কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করতে হবে। কোনোরকম উসকানিমূলক কথায় যেন কেউ মব-জাস্টিস শুরু না করে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, যদি পূজামণ্ডপে বা মন্দিরে বা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা চালানো হয়, তা দীর্ঘদিনের জন্য আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষকেও এ ক্ষেত্রে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে