কোটা আন্দোলন
আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করুন
কোটা আন্দোলন ঘিরে বাংলাদেশে যে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। তার জন্য আমরা সবাই মর্মাহত। এই ক্ষত ও ক্ষতি দীর্ঘদিন আমাদের বয়ে বেড়াতে হবে। মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নয়। কে মেরেছে, কে মরেছে- শেষ বিচারে তারচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে- ‘মরেছে মানুষ, সন্তান মোর মার।’
সংবাদমাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত্য তথ্য সাম্প্রতিক কোটা আন্দোলনে মোট ২০৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, আহতের সংখ্যা ঠিক কত হাজার, তা এখনো আন্দাজ করা যাচ্ছে না। সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালই এ ব্যাপারে যথার্থ তথ্য দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে সহযোগিতা করছে না। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এখনো বহুসংখ্যক আহত মানুষ ভর্তি।
সহিংসতায় আহতদের দেখতে গত ২৬ জুলাই বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আহতদের শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, আহতরা যে দলেরই হোক চিকিৎসার দায়িত্ব সরকার নেবে।
সংশয়ের বিষয় হচ্ছে, গত ২৭ জুলাই সংবাদমাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যমতে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত মোট কতজন আহত হয়েছেন, তাই চিহ্নিত করা যায়নি। অনেক হাসপাতাল আহতদের চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে। ভয়ে-আতঙ্কে অনেকে হাসপাতালেও যায়নি।
আহতদের মধ্যে শুধু যে কোটা আন্দোলনকারী আছেন, তা নয়। আছেন পথচারী, রিকশাওয়ালা, গাড়িচালকসহ সাধারণ শ্রেণিপেশার অনেক মানুষ। অনেকে খোঁড়া ও অন্ধ হয়ে গেছেন। অনেকের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। অনেক শিশু হাসপাতালের বিছানায় পড়ে কাতরাচ্ছে। সরকারপ্রধানের আশ্বাস যেন যথাযথভাবে পালন হয়, তার ব্যবস্থা অবশ্যই প্রশাসনকে করতে হবে।
প্রশ্ন হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস কীভাবে কার্যকর হবে, সে ব্যাপারে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আসেনি। আহতদের পরিবার কি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ বরাবর আবেদন করবেন, না কি সরকারের পক্ষ থেকে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে? দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাসেবা পেতে হলেই-বা কী করতে হবে তাও স্পষ্ট জানা যায়নি।
শুধু চিকিৎসাসেবা না, আহত ও নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা ও পরিবারের কাউকে স্থায়ী কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করে দিতে হবে সরকারকে। একটা কথা মনে রাখতে হবে, যারা যে কারণেই আহত হয়েছেন, তারা সবাই এ দেশের নাগরিক, এ দেশের সন্তান। তাদের সুচিকিৎসা পাওয়ার অধিকার আছে। আহতদের যেন কোনোভাবে তাদের প্রাপ্য চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা না হয়।
একটি শান্তিপূর্ণ মানবিক দেশ গড়ে তুলতে হলে সরকারের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককেই আরও সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। এটা বুঝতে হবে যে, একজন ব্যক্তির ক্ষতি যেমন রাষ্ট্রের ক্ষতি, রাষ্ট্রের ক্ষতিও তেমন ব্যক্তির ক্ষতি। তাই দেশের সার্বিক মঙ্গলের জন্য সবাইকে দেশপ্রেমের পরিচয় দিতে হবে। এখন সবার আগে জরুরি আহতদের সুচিকিৎসা, সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই এ ব্যাপারে সচেষ্ট হবে- এটাই প্রত্যাশা।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে