Views Bangladesh Logo

চোখের লেন্স স্থাপনে নৈরাজ্য দূর করুন

চোখ মানুষের এক অত্যন্ত স্পর্শকাতর অঙ্গ। সারা শরীরের মধ্যে একমাত্র চোখই জীবন্ত অঙ্গ, যার দিকে তাকালে মনে হয় তার নিজস্ব প্রাণ-স্পন্দন আছে। চোখ খুলে মানুষ দুনিয়া দেখে। অন্ধের জীবন অভিশপ্ত। জন্মান্ধ না হলেও অনেকে নানা চোখের সমস্যায়, বয়সজনিত কারণে চোখে ছানি পড়ার কারণে অন্ধ হয়ে যেতে পারে; কিন্তু আশার কথা দেশ-বিদেশে চক্ষু-চিকিৎসার অনেক উন্নতি হয়েছে। ছানিপড়া এখন আর তেমন কোনো বড় সমস্যাই না। স্বল্পমূল্য থেকে উচ্চমূল্যের নানারকম লেন্স পাওয়া যায়। অনেক জায়গায় বিনামূল্যে চোখের ছানি কাটা যায়।

অনেক মানবিক হাসপাতাল ও সংগঠন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও ছানি কাটার চিকিৎসা বিনামূল্যে করে থাকে; কিন্তু তারপরও দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, এই চক্ষু-চিকিৎসা ও চোখে লেন্স স্থাপন নিয়েও নানা স্থানে চলে নৈরাজ্য। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মানুষের এই সংবেদনশীল অঙ্গটি নিয়ে মিথ্যা ব্যবসার ফাঁদ পাতেন। প্রয়োজন না থাকলেও রোগীকে বুঝিয়ে চোখের অপারেশন করে ফেলেন। লেন্সের প্রয়োজন না থাকলেও তাকে লেন্স পরিয়ে দেন। আর সেই লেন্সও নিয়ে চলে দুর্নীতি। এক লেন্সের কথা বলে অন্য লেন্স পরিয়ে দেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা নিরসনে চোখে কৃত্রিম স্বচ্ছ লেন্স স্থাপনে রীতিমতো নৈরাজ্য চলছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের দৃশ্যমান তদারকি না থাকায় সংস্থাটির দেয়া নির্দেশনা মানছে না সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের ছানি অপসারণের পর সাধারণত লেন্স স্থাপন করা হয়; কিন্তু অভিযোগ পাওয়া গেছে, অপারেশন প্যাকেজের নামে রোগীদের সঙ্গে কিছু হাসপাতাল ভয়ংকর প্রতারণা করছে। ওটি চার্জ, সিট ভাড়া ও ওষুধের খরচের বাইরেও অনেক হাসপাতাল সার্ভিস চার্জের নামে নিচ্ছে কয়েক গুণ টাকা। এ ছাড়া প্যাকেজের মধ্যে আলাদা করে লেন্সের দাম উল্লেখ করা হয় না। এতে হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন রোগীরা।

সম্প্রতি সরেজমিন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, হারুন আই হাসপাতাল, ভিশন আই হাসপাতাল, বাংলাদেশ আই হাসপাতাল, ঢাকা আই কেয়ার হাসপাতাল, লায়ন্স আই ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অপথালমোলজি, গ্রিন আই হাসপাতাল, হিকমাহ চক্ষু হাসপাতালসহ রাজধানীর ১৫টি হাসপাতালের রোগী ও স্বজনের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঔষধ প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, প্যাকেজে অপারেশন করা নিষেধ। তাই ঔষধ প্রশাসন কর্মকর্তারা বলছেন, প্যাকেজে অপারেশন ও বাড়তি দামে লেন্স বিক্রির লিখিত অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত ডিসেম্বরে ২৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ১২৯ ধরনের লেন্সের দাম নির্ধারণ করে দেয় ঔষধ প্রশাসন। সেইসঙ্গে লেন্সের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত না করে বিক্রি করার নির্দেশ দেয়া হয়। দেশের সব হাসপাতালে নতুন মূল্য তালিকা নোটিশ বোর্ডে প্রদর্শনেরও নির্দেশ রয়েছে। তবে রাজধানীর বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতালে এই মূল্য তালিকা দৃশ্যমান পাওয়া যায়নি।

চোখের লেন্স স্থাপনে যদি এরকম নৈরাজ্য চলতে থাকে, তাহলে তা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। বিশেষ করে এরকম আস্থাশীল চক্ষু হাসপাতালগুলোর ওপরই যদি এরকম অভিযোগ আসে, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়? আমরা চাই অভিযুক্ত হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ ছাড়া এ নৈরাজ্য দূর হবে না। এটাকে নৈরাজ্য না বলে একরকম চুরি-ডাকাতিই বলা যায়। যে করেই হোক এই দুর্নীতি বন্ধ করা হোক।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ