Views Bangladesh Logo

সিটি করপোরেশন

নাগরিকসেবা নিশ্চিত করুন

ঢাকার বর্তমান জনসংখ্যা ২ কোটি ১০ লাখ। বিপুল এ জনসংখ্যার জন্য প্রয়োজন নানা নাগরিকসেবা। ঢাকার দুই সিটির ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে ১৪ ধরনের নাগরিকসেবা দেয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম সেবা হচ্ছে জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধন। এ ছাড়া নাগরিক, চারিত্রিক, উত্তরাধিকারী (ওয়ারিশ), আয়, অবিবাহিত, দ্বিতীয় বিয়েতে আবদ্ধ না হওয়া, পারিবারিক সদস্য, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার সত্যায়িত সনদও দেওয়া হয়।

পাশাপাশি বিভিন্ন প্রত্যয়ন, অনাপত্তিপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকায় যাচাইকারী হিসেবে স্বাক্ষর দিতে হয় কাউন্সিলরকে। নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে মশক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের তদারকি এবং টিসিবির পণ্য বিতরণের কাজও পরিচালিত কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে; কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুতির পর দুই সিটি মেয়রের সঙ্গে সঙ্গে ওয়ার্ড কাউন্সিলরাও অনেকে এখনো অনুপস্থিত। ফলে চরমভাবে বিঘ্নত হচ্ছে নাগরিকসেবা।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৫৪ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর রয়েছেন। এর মধ্যে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরসহ অন্তত ১১ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে যাচ্ছেন না। তারা কোথায় আছেন, সেটাও কেউ জানেন না। মোবাইল ফোনেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ওই ওয়ার্ডগুলোয় সেবা দেয়া পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একই অবস্থা দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনে।

২০১১ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) যাত্রা শুরু পর এবার প্রথম বড় সংকটে পড়ছে নাগরিকসেবা। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে কুসিক মেয়র ডা. তাহসীন বাহার সূচনাসহ তার অনুসারী অনেক কাউন্সিলরই আত্মগোপনে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের মিছিলে হামলা ও হতাহতের ঘটনায় আসামি হয়েছেন ডা. সূচনাসহ তার অনুসারী ডজন খানেক কাউন্সিলর। এতে নাগরিক সেবা ও চলমান উন্নয়ন কাজে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে অনেক কাউন্সিলরই অভিযুক্ত। ফলে তারা আত্মগোপনে; কিন্তু নাগরিক সেবা অব্যাহত না থাকলে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হবে। সিটি করপোরেশনের মতো দেশের নানা প্রতিষ্ঠানই এখন চলছে প্রায় অভিবাবকহীন। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোসহ, সরকারি হাসপাতালগুলো। আমরা চাই দ্রুতই এসব সমস্যার সমাধান করা হোক। সমস্যা যত বাড়বে নাগরিকদের ক্ষোভ তত বাড়বে। নাগরিক ক্ষোভ বাড়লে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসেছে অল্প কিছুদিন হয়। তাদের ওপর জনসাধারণের নানামুখী আশা-ভরসা। এখনই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করতে চান না বলে নাগরিকরা অনেক সমস্যা মেনে নিয়েছেন; কিন্তু এভাবে কতদিন চলবে? দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান না হলে প্রশ্ন উঠতেই থাকবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ