Views Bangladesh Logo

জঙ্গি দমনে চাই উন্নত সাংস্কৃতিক শিক্ষা

য়েক বছর ধরে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের ফলে জঙ্গিদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাদের অনেক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। বিভিন্ন মামলায় কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়েছে। তাই তাদের তৎপরতা অনেকটাই কমেছে। দুই যুগ আগে জঙ্গি কর্মকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ যেমন ভীত ছিল, এখন তা নেই। বর্তমান সরকার অনেক শক্ত হাতে জঙ্গি দমন করেছে। তারপরও মাঝে মাঝে দু-চারটি জঙ্গি সংগঠনের খবর পাওয়া যায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, রাজধানীর মহাখালী থেকে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে আবু বক্কর ওরফে ফাহিমের বিরুদ্ধে ‘মি. বাংলাদেশ’ ছবির পরিচালক খিজির হায়াত খানের ওপর হামলার পরিকল্পনা ও বাসা র‌্যাকি করার অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তার বাকি দুজন হলো মামুন হোসেন ও হাসিবুল ইসলাম। নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে একত্রিত হলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার আসামিরা তাদের পলাতক সহযোগীদের নিয়ে বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার লক্ষ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করার নিমিত্তে সরকার ও রাষ্ট্রের জননিরাপত্তা বিঘ্ন ও ক্ষতিসাধনের ষড়যন্ত্র করছিলেন। তারা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে মিলিত হন।

তাদের নামে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা। উগ্র মতবাদ প্রচার ও বিশ্বাস থেকেই কেউ কেউ জঙ্গি হয়ে পড়ে। জঙ্গি তৎপরতার প্রাথমিক লক্ষণ ভিন্ন মতামত সহ্য করতে না পারা। আর সমাজে ভিন্ন মতামতের প্রতি অসহিষ্ণুতা গড়ে ওঠে সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার অভাব থেকে। শুধু আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা কঠিন-কঠোর করার মাধ্যমে সম্পূর্ণ জঙ্গি দমন সম্ভব নয়।

দরকার সমাজের সর্বস্তরে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা। আর তা শুরু করতে হবে পরিবার থেকেই। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা আশা করব, সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একদিন সম্পূর্ণ জঙ্গিমুক্ত হবে। ভুল পথে পা বাড়িয়ে একটি মানুষের জীবনও যেন ধ্বংসের দিকে না যায় সে বিষয়ে সরকারের সচেতন ভূমিকা আরো জোরদার করতে হবে। সেইসঙ্গে দেশের জঙ্গিবাদ নির্মূলের জন্য পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আরও আগে থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

কারণ জঙ্গিবাদ একটা আদর্শের বিষয়। জঙ্গিদের ধরে বিচার করে কিছু সময়ের জন্য হয়তো তাদের সক্ষমতা নষ্ট করা যায়; কিন্তু চিরতরে নির্মূল করা যায় না। তাই দেশের জঙ্গি দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নতুনভাবে মূল্যায়ন করে সব ঢেলে সাজাতে হবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ