ফিফার নিষেধাজ্ঞায় কোয়ার্টার ফাইনালে কোয়ান্সাকে পাচ্ছে না ইংল্যান্ড
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে ইংল্যান্ড। ফিফার দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে শনিবারের শেষ আটের লড়াই থেকে ছিটকে গেছেন ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ান্সা। এমনকি ইংল্যান্ড যদি সেমিফাইনালে ওঠে, সেখানেও খেলতে পারবেন না তিনি।
মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ভিএআর রিভিউয়ের পর সরাসরি লাল কার্ড পেয়েছিলেন কোয়ান্সা। সেই অপরাধেই ফিফা তাকে এই দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয়।
কোয়ান্সার এই নিষেধাজ্ঞা ইংল্যান্ডের ম্যানেজার টমাস টুখেলের রক্ষণভাগের পরিকল্পনাকে বেশ জটিল করে তুলেছে। কারণ, দলের প্রথম পছন্দের রাইট-ব্যাক রিস জেমস এখনও হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করছেন। টানা তিনটি ম্যাচ মিস করার পর গত বুধবারের অনুশীলনেও অনুপস্থিত ছিলেন জেমস। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে তার খেলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জেমসের অনুপস্থিতিতে টুখেল রাইট-ব্যাক পজিশনে ডেড স্পেন্স এবং কোয়ান্সাকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলিয়েছেন, তবে কেউই শতভাগ ভরসা দিতে পারেননি। মেক্সিকো ম্যাচে কোয়ান্সা লাল কার্ড দেখার পর ডিফেন্ডার এজরি কনসাকে রাইট-ব্যাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। নরওয়ের বিপক্ষেও তাকে একই ভূমিকায় দেখা যেতে পারে আর সেন্ট্রাল ডিফেন্সে ফিরতে পারেন জন স্টোন্স।
অবশ্য কোয়ান্সার এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করার পথ খুঁজছে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। বেলজিয়াম ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার যে সিদ্ধান্ত ফিফা নিয়েছিল, সেটিকে উদাহরণ হিসেবে সামনে আনছে তারা।
এই ঘটনা ফিফার শৃঙ্খলা প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ফিফার এই দ্বিমুখী নীতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইংলিশ কোচ টমাস টুখেল বলেন, ‘এসবের শুরু কোথায় আর শেষই বা কোথায়? সিদ্ধান্ত কি আদৌ পরিবর্তন করা যায়, নাকি যায় না? প্রশ্ন এটাই।’
ফিফার নিষেধাজ্ঞার এই মানদণ্ড নিয়ে নিজের চরম হতাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
আগামী রোববার (১২ জুলাই) বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।
মতামত দিন