বন্যার আশঙ্কা: জরুরি প্রস্তুতি গ্রহণ করুন
কয়েকদিনের একটানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে ভয়াবহ বন্যার আলামত দেখা দিচ্ছে কয়েকটি জেলায়। এর মধ্যেই খাগড়াছড়ি, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ ময়মনসিংহ, বরিশালের কয়েকটি জেলায় দেখা দিয়েছে প্রচণ্ড জলাবদ্ধতা। মহুরী নদীর পানির উপচে পড়ে তলিয়ে গেছে ফেনীর প্রায় ৪০টি গ্রাম। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ।
আজ শনিবার (৩ আগস্ট) আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে একটানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে আরও প্রায় ১০ দিন। বঙ্গোপাসাগরে দেখা দিয়েছে নিম্নচাপ। সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, তাদের পর্যবেক্ষণাধীন বিভিন্ন নদনদীর ১১০টি পয়েন্টের মধ্যে পানির সমতল বেড়েছে ৬৪টিতে। উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি। ফলে এ অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমোর, ঘাঘট, যমুনাশ্বরী, আপার করতোয়া, পুনর্ভবা, টাঙ্গন, ইছামতী-যমুনা ও আপার আত্রাই নদীগুলোর পানি উপচে পড়ে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
একই আশঙ্কা রয়েছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোও। সেগুলোও সমতল ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাহলে দেশের অধিকাংশ জেলাই আগস্টের মাঝামাঝি বন্যার কবলে পড়বে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে এখনই জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কোটাবিরোধী আন্দোলনের কারণে এমনিতেই দেশ জরুরি অবস্থার মধ্যে রয়েছে। এখনো যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য-দ্রব্য আনা-নেয়া করতেও সমস্যা হচ্ছে। চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে অনেকের। এই অবস্থায় যদি বন্যা হয়, তাহলে জনজীবন আরও খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে।
চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে ভীতি রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বন্যার আলামত। কী খেয়ে বাঁচবে তাই নিয়ে নিম্নআয়ের মানুষ চিন্তিত। অনেকেই এখন বেকার হয়ে বসে আছে। যারা দিন এনে দিন খায়, বন্যা এলে তাদের না খেয়ে দিন কাটাতে হবে। তাই সরকারকে এখনই জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যেসব অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে, সেসব অঞ্চলে খাদ্যমজুদ রাখতে হবে। নিরাপদ পানির সংস্থান করতে হবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবাও অব্যাহত রাখতে হবে।
প্রয়োজনে বন্যাদুর্গত অঞ্চল থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে শিশু, নারী ও বয়ঃবৃদ্ধদের। পাশাপাশি ফসল ও গবাদি পশু রক্ষায়ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করার আগেই দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি যতটা পারা যায় স্বাভাবিক করতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনই স্বাভাবিক করতে হবে যেন মানুষ প্রয়োজনীয় সব কাজ সারতে পারে। সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।
তা নাহলে সামান্য গাফিলতিতে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা থাকবে। আমরা চাই এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকার জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করবে। সরকারের উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে এখনই জরুরি নির্দেশ দিয়ে রাখা।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে