Views Bangladesh Logo

কী কারণে লাল কার্ড পেলেন এমবোলো, ফুটবল আইন যা বলে

Sports Desk

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রতিপক্ষের ফাউলে হলুদ কার্ড দেখলেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস, রেফারির প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল সেটাই। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনায় কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দৃশ্যপট বদলে গেল পুরোপুরি! পারেদেসের কার্ড বাতিল, উল্টো অভিনয়ের (সিমুলেশন) অপরাধে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে লাল কার্ড দেখলেন সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এমবোলো! কানসাস সিটিতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে শনিবারের এই সিদ্ধান্তই কার্যত গড়ে দিয়েছে ম্যাচের ভাগ্য—আর জন্ম দিয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত বিতর্কের।

ঘটনা ম্যাচের ৭২ মিনিটের, ডান এনদয়ের গোলে সুইজারল্যান্ড ১-১ সমতায় ফেরার কিছুক্ষণ পরের। পারেদেস এমবোলোর গোড়ালিতে আঘাত করেছেন ভেবে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারকে হলুদ কার্ড দেখান পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনেইরো। কিন্তু ‘ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি’ দেওয়ার সন্দেহে পর্যালোচনার সুপারিশ করে ভিএআর। পিচসাইড মনিটরে রিপ্লে দেখে রেফারির মনে হয়, পারেদেসের কোনো স্পর্শই ছিল না—সংস্পর্শের আগেই পড়ে যাচ্ছিলেন এমবোলো। অর্থাৎ ফাউল আদায়ে অভিনয় করেছেন তিনি। ফলে পারেদেসের কার্ড প্রত্যাহার করে এমবোলোকে সিমুলেশনের হলুদ কার্ড দেখান পিনেইরো। প্রথমার্ধে পারেদেসের ওপর কড়া ট্যাকলে এক দফা হলুদ কার্ড দেখে রাখা এই স্ট্রাইকারের জন্য সেটাই হয়ে যায় দ্বিতীয় হলুদ—অর্থাৎ লাল কার্ড।

সিদ্ধান্ত শুনে ভেঙে পড়েন ২৯ বছর বয়সী এমবোলো। রেফারির কাছে প্রতিবাদ জানিয়ে লাভ হয়নি। কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়ার সময় সতীর্থরা তাকে সান্ত্বনা দেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে গত ৬০ বছরে সিমুলেশনের কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে বহিষ্কৃত মাত্র চতুর্থ খেলোয়াড় এমবোলো। তার আগে এ কীর্তি আছে কেবল ইতালির ফ্রান্সেসকো তত্তি (২০০২, দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে), মেক্সিকোর লুইস পেরেস ও ঘানার আসামোয়া জিয়ানের (দুজনই ২০০৬ সালে)।

লাল কার্ডের মাশুলও গুনতে হয়েছে চড়া দামে। সমতায় ফেরার পর ম্যাচের গতি যখন সুইসদের পক্ষে, তখনই ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা। এরপর ৫০ মিনিটের বেশি সময় বীরত্বপূর্ণ রক্ষণে টিকে থাকলেও অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেস ও লাউতারো মার্তিনেসের গোলে ৩-১ ব্যবধানে হেরে ৭২ বছর পর ওঠা কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় সুইজারল্যান্ড।

সিদ্ধান্তটি নিয়ম মেনে হলেও তা নিয়ে বিভক্ত ফুটবল বিশ্ব। সাবেক শীর্ষ রেফারি মার্ক ক্ল্যাটেনবার্গের মতে, কার্ড বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক হলেও এমন পরিস্থিতিতে সিমুলেশনের জন্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোটা ‘ভীষণ কঠোর’ শাস্তি। তিনি মনে করিয়ে দেন, এই টুর্নামেন্টেই যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে ম্যাচে একই প্রটোকলে ভুল খেলোয়াড়ের কার্ড বদলে ডাইভ দেওয়া খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। ধারাভাষ্যকক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোলরক্ষক ব্র্যাড ফ্রিডেলের প্রতিক্রিয়া ছিল এমন—এত বড় ম্যাচে এমন সিদ্ধান্তে সুইজারল্যান্ডের বাইরেও বহু মানুষ ক্ষুব্ধ হবেন। তবে উল্টো সুরও আছে। সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার ব্র্যাডলি রাইট-ফিলিপসের ভাষায়, তার সহানুভূতি এমবোলোর সতীর্থদের জন্য, এমবোলোর জন্য নয়। কারণ তার কাণ্ডেই হয়তো দলের সেমিফাইনালে যাওয়া হলো না।

ম্যাচ শেষে সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিনও ক্ষোভ লুকাননি। ক্ষোভ জানিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের কয়েকজন খেলোয়ারও।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ