চিরচেনা যানজট আর কংক্রিটের নগরীতে নেমেছে ছুটির নীরবতা
ঈদুল আজহাকে ঘিরে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকেই ফাঁকা হয়ে যেতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ইতোমধ্যে নগরী ছেড়েছেন লাখো মানুষ। বাস, ট্রেন ও লঞ্চে করে ঘরমুখো মানুষের ঢল দেখা গেলেও রাজধানীর সড়কগুলোতে এখন মিলছে স্বস্তির চিত্র।
যে ঢাকা নগরী প্রতিদিন যানজট আর কর্মব্যস্ততায় মুখর থাকে, ছুটি শুরু হতেই সেখানে নেমে এসেছে অনেকটাই শান্ত পরিবেশ। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ কমে যাওয়ায় নেই চিরচেনা যানজট, কমেছে মানুষের কোলাহলও। অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় রাজধানীর ব্যস্ত এলাকাগুলোতেও দেখা যাচ্ছে তুলনামূলক নিরিবিলি অবস্থা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর, বনানী ও খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা এখন অনেকটাই নিরিবিলি। সাধারণ সময়ে যেসব সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও তীব্র যানজট দেখা যায়, সেসব সড়কের অধিকাংশই ছিল প্রায় ফাঁকা। কোথাও কোথাও বেশ কিছু যানবাহনের চলাচল থাকলেও রয়েছে স্বস্তি।
রাজধানীর সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যাও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসগুলোকে দীর্ঘ সময় স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে যাত্রীর অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেক বাসে আসন ফাঁকা রেখেই চলাচল করতে হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদেরও বেশ স্বস্তিতে কাজ করতে দেখা গেছে। সড়কে গাড়ির চাপ কম থাকায় অধিকাংশ সিগন্যালেই তারা স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অনেক এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত চাপেরও মুখোমুখি হতে হয়নি তাদের।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ছুটির সমন্বয়ের অংশ হিসেবে গত ২৩ মে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে অফিস খোলা রাখা হয়েছিল। ছুটি শেষে আগামী ১ জুন সোমবার থেকে অফিস-আদালত ও ব্যাংকের কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে