Views Bangladesh Logo

ঈদের ছুটিতে ক্রেতা সংকটে নিরিবিলি রাজধানীর কাঁচাবাজার

পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা এখন অনেকটাই ফাঁকা। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে নগরবাসীর বড় একটি অংশ গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় ব্যস্ত এই মহানগরীতে নেমে এসেছে এক ধরনের নিস্তব্ধতা। এর প্রভাব স্পষ্টভাবে পড়েছে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারেও। সাধারণ সময়গুলোতে যেখানে ভোরের আলো ফুটতেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে ওঠে বাজার, সেখানে এখন দেখা যাচ্ছে একেবারেই ভিন্ন চিত্র। অনেক বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় দোকানিরা অলস সময় পার করছেন। বিক্রি না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী দোকানই খোলেননি। কোথাও কোথাও পুরো বাজারজুড়েই বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা।

বিশেষ করে সবজি, মাছ ও মাংসের দোকানগুলোতে আগের মতো ভিড় নেই। বাজারে আসা অল্পসংখ্যক ক্রেতাও প্রয়োজনীয় পণ্য কিনেই দ্রুত ফিরে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে মানুষের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বেচাকেনাও অনেক কমে গেছে। ফলে বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এখন বাজারগুলো অনেকটাই প্রাণহীন হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (২৯ মে) সকালে রাজধানীর শান্তিনগর, মালিবাগ ও খিলগাঁও এলাকার কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। অন্যান্য শুক্রবারে যেখানে সকাল থেকেই মানুষের ভিড় থাকে, সেখানে এবার ছিল একেবারেই ভিন্ন দৃশ্য। বাজারজুড়ে ছিল নীরবতা, ফাঁকা রাস্তা আর বিক্রেতাদের অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস।

শান্তিনগর থেকে মালিবাগ মোড় পর্যন্ত সড়কের পাশে প্রতিদিনের মতো বসেছিল অস্থায়ী কাঁচাবাজার। সাধারণ দিনে ভোর থেকে শুরু হয় জমজমাট বেচাকেনা। কিন্তু শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকায় হাতে গোনা কয়েকটি দোকান ছাড়া আর কিছুই খোলা নেই। ফল বিক্রেতাদের দু–একটি ভ্যান দেখা গেলেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল খুবই কম।

দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় কলা বিক্রি করেন মহসীন। প্রতিদিন গভীর রাতে নরসিংদী থেকে কলা নিয়ে ঢাকায় আসেন তিনি। কিন্তু এবার তাঁর প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ মানুষ গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতা নেই। ফলে বিক্রিও অনেক কমে গেছে।

একই অবস্থা আম বিক্রেতা মো. সুমনের। মাদারীপুরের টেকেরহাট থেকে ঢাকায় এসে আট বছর ধরে তিনি এই এলাকায় ব্যবসা করছেন। সকাল থেকে আম সাজিয়ে বসে থাকলেও আশানুরূপ বিক্রি হয়নি বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, মানুষ ঢাকায় ফিরলে আবার বাজার জমে উঠবে।

খিলগাঁও রেলগেট এলাকার মাছের বাজারেও ছিল একই চিত্র। সাধারণত ভোরের আগেই যেখানে মাছ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের ভিড় শুরু হয়, সেখানে শুক্রবার সকালে একটি দোকানও খোলা পাওয়া যায়নি। পুরো বাজার ফাঁকা পড়ে ছিল। বন্ধ দোকানগুলোর পাশে বসে পাহারা দিচ্ছিলেন বাজারের প্রহরী শিরিনা আক্তার।

তিনি জানান, এক দশকের বেশি সময় ধরে এই বাজারে পাহারার কাজ করছেন। ঈদের ছুটিতে ব্যবসায়ীরা বাড়ি চলে যাওয়ায় বাজার কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। তাই সকাল থেকে তাঁর কাজ এখন শুধু দোকানগুলো দেখাশোনা করা।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কাঁচাবাজারে এমন চিত্র প্রায় প্রতি বছরই দেখা যায়। ঈদের ছুটিতে ঢাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় নগরীর স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য অনেকটাই কমে আসে। এর প্রভাব পড়ে খুচরা ব্যবসা, অস্থায়ী দোকান ও কাঁচাবাজারগুলোর ওপর। বিশেষ করে ভোরবেলা বিভিন্ন এলাকা থেকে পণ্য নিয়ে আসা ক্ষুদ্র বিক্রেতারা এই সময়ে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েন। ক্রেতা কমে যাওয়ায় তাঁদের বিক্রি ও আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। অনেক ব্যবসায়ী প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য আনছেন, আবার কেউ কেউ লোকসানের আশঙ্কায় দোকানই খুলছেন না।

তবে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের ছুটি শেষ হয়ে মানুষ রাজধানীতে ফিরতে শুরু করলে বাজারগুলো আবারও আগের ব্যস্ততা ফিরে পাবে। তখন ক্রেতাসমাগম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনাও স্বাভাবিক হয়ে উঠবে বলে তাঁদের প্রত্যাশা।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ