বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক জয় ফিলিস্তিনকে উৎসর্গ করল মিশর কোচ
বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে মিসর। শনিবার (৪ জুলাই) ডালাস স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর এই ঐতিহাসিক জয় ফিলিস্তিনের জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসান।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচের স্কোর ছিল ১-১। এরপর টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউতার ও লুকাস হেরিংটন স্পট-কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলে মিসরের পথ সহজ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত হোসাম আবদেলমাগুইদের সফল শটে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আফ্রিকার দলটি।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো জয় পেয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় মিসর। আগামী ৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে তারা।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় হোসাম হাসান বলেন, তিনি ফিলিস্তিনের মানুষের বিজয় এবং শহীদদের জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করেছেন। একই সঙ্গে এই ঐতিহাসিক জয় মিসর ও ফিলিস্তিনের জনগণকে উৎসর্গ করেন তিনি।
শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠে মিসর ও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা যায় হোসাম হাসানকে। অন্যদিকে, জয় নিশ্চিত হওয়ার পর সিজদায় লুটিয়ে পড়েন মিসরের ফুটবলাররা।
কোচের এই বার্তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা থেকেও এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের পাশে স্থাপিত অস্থায়ী বড় পর্দায় শত শত মানুষ ম্যাচটি উপভোগ করেন। অনেক শিশুর মুখে আঁকা ছিল মিসরের জাতীয় পতাকার রঙ। টাইব্রেকারে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁবু ও ধ্বংসস্তূপের আশপাশে থাকা মানুষের মধ্যে উদযাপনের দৃশ্য দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গাজার বাসিন্দা তামের নাহেদ লেখেন, এতটা আবেগ নিয়ে এবারই প্রথম তিনি বিশ্বকাপ দেখছেন। চারপাশের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও এই জয় মানুষকে কিছু সময়ের জন্য হলেও জীবন উদযাপনের সুযোগ করে দিয়েছে।
মতামত দিন