বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারেন মিসর কোচ
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর নাটকীয় ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হারের পর বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান।
ম্যাচে ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিসর। তবে শেষ ১৪ মিনিটে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজের গোলের সুবাদে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শেষ দিকে মিশরের দুটি পেনাল্টির আবেদন নাকচ করেন রেফারি। এতে মাঠেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিসরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ।
অভিযোগ রয়েছে, ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজনার একপর্যায়ে তিনি গ্যালারির দিকে থুতু নিক্ষেপ করেন।
আটলান্টার স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে মিশরের ডাগআউটে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, যেখানে দলটির কোচ হোসাম হাসানকে মাঠের রেফারির উদ্দেশ্যে অত্যন্ত বিতর্কিত সেই 'এক্স' (X) অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আম্পায়ার বা ম্যাচ অফিশিয়ালদের সাথে এমন অপেশাদার আচরণের জন্য মিশরের সহকারী কোচ আল-সাগিরের পাশাপাশি প্রধান কোচ হোসাম হাসানকেও হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। ম্যাচ অফিশিয়ালদের সঙ্গে তীব্র তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে হোসাম হাসানকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাঠের রেফারির দিকে দুই হাত দিয়ে 'এক্স' (X) চিহ্ন দেখাতে দেখা যায়। সাধারণত ফুটবল মাঠে বর্ণবাদী আচরণের শিকার হলে ফুটবলার বা কোচরা রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই ধরনের 'এক্স' (X) অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করেন। তবে হোসাম হাসান ঠিক এই কারণেই চিহ্নটি দেখিয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, কারও দিকে থুতু নিক্ষেপ গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের অপরাধের জন্য কমপক্ষে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাসহ আরও কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তাই তদন্ত শেষে হোসাম হাসানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে তাকে প্রশ্ন করা হয়, ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানের কারণে রেফারির সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব পড়েছে কি না। জবাবে তিনি সরাসরি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
হোসাম হাসান বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। আমরা একটি মানবিক বিষয় নিয়ে কথা বলছিলাম। যারা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে বা যাদের হাত কেটে ফেলা হয়েছে, তাদের কষ্টও আমাদের ভাবতে হবে। আমরা চাই, ফুটবল মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করুক।’
মতামত দিন