আধুনিক ফ্যাশন নাকি প্রাণঘাতী মরণফাঁদ? জেনে নিন ই-সিগারেটের আদ্যোপান্ত
বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে 'ভ্যাপিং' বা ই-সিগারেট একটি আধুনিক স্টাইল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, এই সুদৃশ্য ডিভাইসটি আসলে স্বাস্থ্যের জন্য এক চরম হুমকি।
ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক সিগারেট হলো এমন একটি ব্যাটারিচালিত যন্ত্র, যা একটি বিশেষ তরলকে (ই-লিকুইড) উত্তপ্ত করে বাষ্প তৈরি করে। ব্যবহারকারী এই বাষ্প ফুসফুসে টেনে নেন। এই তরলে থাকে নিকোটিন, প্রোপিলিন গ্লাইকল, গ্লিসারিন এবং বিভিন্ন সুগন্ধি রাসায়নিক।
অনেকেই মনে করেন, ই-সিগারেট সাধারণ সিগারেটের চেয়ে নিরাপদ। তবে চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি ভুল ধারণা। সাধারণ সিগারেটে তামাক পুড়লেও ই-সিগারেটে সরাসরি নিকোটিন বাষ্পীভূত হয়, যা অত্যন্ত আসক্তি তৈরি করে।
সমীক্ষা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ২০২০ সালে ৪.১% কিশোর ধূমপানে আসক্ত থাকলেও ই-সিগারেটের সহজলভ্যতার কারণে ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৯% হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৯২% ই-সিগারেটে 'ডায়াসিটিল' নামক ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-সিগারেট থেকে 'পপকর্ন লাং' বা ফুসফুসের শ্বাসনালী সরু হয়ে যাওয়ার মতো স্থায়ী রোগ হতে পারে। এছাড়া এটি রক্তচাপ বৃদ্ধি, হৃদরোগ এবং ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এর ত্রুটিপূর্ণ ব্যাটারি বিস্ফোরণের নজিরও কম নয়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে এর প্রচলন সবচেয়ে বেশি। তবে এর ভয়াবহতা দেখে ভারত, ব্রাজিল, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের প্রায় ৩৭টি দেশ ই-সিগারেট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যও অপ্রাপ্তবয়স্কদের রক্ষায় একবার ব্যবহারযোগ্য (ডিসপোজেবল) ভ্যাপ নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, ই-সিগারেট ধূমপান ছাড়ার কোনো নিরাপদ বিকল্প উপায় নয়; বরং এটি অধূমপায়ীদের নিকোটিনে আসক্ত করার একটি নতুন ফাঁদ। সংস্থাটি অবিলম্বে সুগন্ধিযুক্ত ই-সিগারেট নিষিদ্ধ এবং এক্ষেত্রে সাধারণ সিগারেটের মতোই কঠোর আইন প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে