ঈদে শরীরের অবস্থা বুঝে মাংস খান
ঈদুল আজহা মানেই বাহারি খাবার আর কোরবানির মাংসের নানা আয়োজন। তবে আনন্দের এই সময়ে অতিরিক্ত মাংস খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স, ওজন ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে পরিমিত মাংস খাওয়াই স্বাস্থ্যকর।
পুষ্টিবিদ মো. ইকবাল হোসেনের মতে, ঈদের সময় মানুষ অজান্তেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মাংস খেয়ে ফেলেন। এতে হজমের সমস্যা, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া কিংবা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
এক দিনে কতটুকু মাংস খাওয়া উচিত
স্বাভাবিক ওজনের একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে প্রায় ৩৫০ গ্রাম পর্যন্ত মাংস খেতে পারেন। তবে খাদ্যতালিকায় অন্য কোনো প্রোটিন থাকলে মাংসের পরিমাণ কমাতে হবে। একবারে বেশি না খেয়ে শাকসবজি ও সালাদের সঙ্গে ভাগ করে খাওয়াই ভালো।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কম তাপে ও কম সময়ে ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রান্না করলে মাংসের পুষ্টিগুণ বেশি অক্ষুণ্ন থাকে।
কিডনি রোগীদের জন্য সতর্কতা
কিডনি রোগীদের লাল মাংস কম খেতে হবে। গরু বা খাসির বদলে মুরগির মাংস তুলনামূলক ভালো। গরু-খাসির মাংস খেতে হলে কম লবণ দিয়ে রান্না করতে হবে এবং ঝোল এড়িয়ে চলতে হবে। পাশাপাশি ডাল ও বীজজাতীয় খাবারও সীমিত রাখতে হবে।
হৃদ্রোগ ও উচ্চ রক্তচাপ
হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে গরু-খাসির মাংস কম খাওয়াই ভালো। মাংসের সাদা চর্বি ফেলে দিয়ে অল্প পরিমাণে খেতে হবে। চামড়া ছাড়া মুরগি বা হাঁসের মাংস তুলনামূলক নিরাপদ।
ডায়াবেটিসে যা মানতে হবে
ডায়াবেটিস রোগীদের তৈলাক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার কম খেতে হবে। গরু-খাসির মাংসে চর্বি বেশি থাকায় পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ অতিরিক্ত চর্বি রক্তে চিনির মাত্রা ও কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে।
ইউরিক অ্যাসিড থাকলে
যাদের ইউরিক অ্যাসিড বেশি, তাদের গরুর মাংস, কলিজা, মগজ, ভুঁড়ি ও পায়া এড়িয়ে চলা উচিত। নিয়ন্ত্রণে থাকলে অল্প পরিমাণে মাংস খাওয়া যেতে পারে।
ঝুঁকি কমানোর কিছু উপায়
• মাংসের সাদা চর্বি ফেলে দিন
• ঝোল ছাড়া মাংস খান
• অল্প পরিমাণে খান
• রাতের বদলে দুপুরে মাংস খাওয়ার চেষ্টা করুন
• গ্রিল বা কম তেলে রান্না করা মাংস বেছে নিন
• টমেটো, সালাদ ও লেবুর মতো খাবার সঙ্গে রাখুন
• খাওয়ার পর হালকা বিশ্রাম নিন
ওজন কমাতে চাইলে
যারা ওজন কমাতে চান, তাদের গরু ও খাসির মাংস সীমিত খেতে হবে। মাংসের সঙ্গে পেঁপে বা আনারস ব্যবহার করলে দ্রুত সেদ্ধ হয় এবং রান্নার সময়ও কম লাগে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘এক দিন বেশি খেলে কিছু হয় না’—এই ধারণা ঠিক নয়। অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে জমে নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই ঈদের আনন্দের মধ্যেও পরিমিত খাবার খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখা জরুরি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে