গরমে এসি চালিয়ে বিদ্যুৎ বিল কমানোর সহজ কৌশল
গরমে ঘরে স্বস্তি পেতে এখন প্রায় প্রতিটি পরিবারই দিনের একটা বড় সময় এসি চালিয়ে রাখছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মাস শেষের বিদ্যুৎ বিলে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এসি না কিনেও শুধু সঠিক নিয়মে এসি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
তাপমাত্রা কত রাখা উচিত
অনেকেই মনে করেন, এসির তাপমাত্রা যত কম রাখা হবে, ঘর তত দ্রুত ঠান্ডা হবে। বাস্তবে চিত্রটি ভিন্ন। তাপমাত্রা কমিয়ে রাখলে কম্প্রেসরকে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয়, ফলে বিদ্যুতের ব্যবহারও বেড়ে যায়। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা এসির তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এমনকি গবেষণায় দেখা গেছে, ২৪ ডিগ্রির নিচে প্রতি ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমালে বিদ্যুতের খরচ ৬ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
আবার কিছু গবেষণা বলছে, এসির তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি বাড়ালে বিদ্যুৎ খরচ মোটামুটি ৩ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে, যদিও প্রকৃত সাশ্রয় নির্ভর করে ঘরের আকার, বাইরের আবহাওয়া ও এসির ধরনের ওপর। ২৪ ও ২৬ ডিগ্রির মধ্যে তুলনা করলে দেখা যায়, ২৪ ডিগ্রিতে ঘর ঠান্ডা রাখতে কম্প্রেসরকে বেশি সময় চালু থাকতে হয়, আর ২৬ ডিগ্রিতে কম্প্রেসর মাঝেমধ্যে বন্ধ হয়ে যায় বলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় বেশি। এই পার্থক্যে মাস শেষে প্রায় ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে, যা অনেক পরিবারের জন্য উল্লেখযোগ্য অঙ্ক। শুধু আর্থিক দিক থেকে নয়, স্বাস্থ্যের দিক থেকেও ২৬ ডিগ্রি তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করেন চিকিৎসকরা, কারণ এতে শরীর হঠাৎ ঠান্ডা-গরমের ধাক্কায় পড়ে না।
ফ্যানের সহায়তা নিন
এসি চালানোর সময় সিলিং ফ্যান বা স্ট্যান্ড ফ্যান হালকা গতিতে চালিয়ে রাখলে ঠান্ডা বাতাস দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয় এবং তাপমাত্রা আরও কমানোর প্রয়োজন পড়ে না, ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।
স্লিপ মোড ও টাইমারের ব্যবহার
রাতে ঘুমানোর সময় স্লিপ মোড বা টাইমার চালু রাখা যেতে পারে। এই সুবিধা চালু থাকলে প্রতি এক ঘণ্টা পরপর এসির তাপমাত্রা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ডিগ্রি করে বেড়ে যায়, যা ঘুমের আরাম বজায় রেখেও বিদ্যুৎ খরচ কমাতে সহায়তা করে। প্রয়োজন শেষে এসি নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অহেতুক বিদ্যুৎ অপচয় রোধ হয়।
ফিল্টার পরিষ্কার ও নিয়মিত সার্ভিসিং
নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার রাখাও কুলিং দক্ষতা বাড়ানোর অন্যতম উপায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতি দুই থেকে চার সপ্তাহ পরপর এসির ফিল্টার পরিষ্কার করা এবং বছরে অন্তত একবার পেশাদার সার্ভিসিং করানো উচিত। এতে এসির স্থায়িত্ব বাড়ে এবং কর্মক্ষমতাও ভালো থাকে। এ ছাড়া এসি চালানোর সময় দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং সরাসরি রোদ আটকাতে পর্দা ব্যবহার করলেও ঘর দ্রুত ও কার্যকরভাবে ঠান্ডা হয়।
বর্ষায় ড্রাই মোড কার্যকর
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ড্রাই মোড ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়েও এসির তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখাই সবচেয়ে উপযুক্ত, কারণ এতে ঘর আরামদায়ক থাকার পাশাপাশি শরীরের জন্যও নিরাপদ থাকে।
শুধু সেটিংস পরিবর্তন করলেই বিদ্যুৎ বিল অর্ধেক হয়ে যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। প্রকৃত সাশ্রয় নির্ভর করে এসির এনার্জি স্টার রেটিং, ঘরের আকার, বাইরের তাপমাত্রা, ঘরের ইনসুলেশন এবং প্রতিদিন কতক্ষণ এসি চালানো হচ্ছে তার ওপর। তাই নতুন এসি কেনার সময় স্মার্ট ফিচারের পাশাপাশি উচ্চ এনার্জি এফিসিয়েন্সি ও ভালো স্টার রেটিং যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মতামত দিন