Views Bangladesh Logo

৩ শিক্ষককে বহিষ্কার: সিন্ডিকেট সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ঢাবি শিক্ষক সমিতির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমানকে সাময়িক বহিষ্কার ও তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। একই সঙ্গে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. শবনম জাহানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনেরও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে শিক্ষক সমিতি বলেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্র। বিভিন্ন মত, পথ, যুক্তি ও দর্শনের সমন্বয়ে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্দেশে নয়, বরং ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩’-এর অধীনে পরিচালিত হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭৩ সালের আদেশ অনুযায়ী কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে তথ্যানুসন্ধান বা তদন্ত পরিচালনার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন এবং অভিযোগকারীদের সঙ্গে সরাসরি বা মুখোমুখি সাক্ষাতের মাধ্যমে অভিযোগ খণ্ডনের সুযোগ দেওয়ার নীতি অনুসরণ করতে হবে।

শিক্ষক সমিতির দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী অনির্বাচিত প্রশাসনের সময়ে ‘মব’ সৃষ্টির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়েছিল। এসব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে তথ্যানুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত তথ্যানুসন্ধান কমিটি কোনো উপসংহার বা সিদ্ধান্ত ছাড়াই প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই সিদ্ধান্তহীন প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে তদন্ত কমিটি গঠন করাকে ‘প্রহসনমূলক’ বলে উল্লেখ করেছে শিক্ষক সমিতি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা তথ্যানুসন্ধানের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে তার ভিত্তিতেই পরবর্তী তদন্ত কমিটি গঠন করা যেতে পারে। কিন্তু ১৯৭৩ সালের আদেশের এসব নীতিমালা অনুসরণ না করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে, সেগুলো অস্বচ্ছ ও নিপীড়নমূলক হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষক সমিতি।

সংগঠনটির অভিযোগ, এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো তদন্ত কমিটিতে অভিযুক্ত শিক্ষক ও অভিযোগকারীদের মুখোমুখি করে বক্তব্য, যুক্তিতর্ক বা তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির সব সদস্যের উপস্থিতি ও মতামত নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির ন্যূনতম প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রতিনিধিকে না জানিয়ে এবং স্বাক্ষর গ্রহণ না করেই তদন্ত প্রতিবেদন সিন্ডিকেটে জমা দেওয়ার অভিযোগও করেছে তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বলেছে, এ ধরনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পূর্বনির্ধারিত ও একপাক্ষিক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষক বরখাস্তের যে প্রক্রিয়া চলছে, সেটিকে সংগঠনটি ‘প্রশাসনিক মবতন্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

বর্তমান প্রশাসনের কার্যক্রমে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষক সমিতি বলেছে, ১৯৭৩ সালের আদেশ লঙ্ঘন করে শিক্ষক নিপীড়নের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করা হচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে। অস্বচ্ছ ও জবাবদিহিতাহীন তথাকথিত তদন্ত কমিটি বাতিল করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ভীতির পরিবেশের অবসান এবং শিক্ষকদের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের ভাষ্য, দমন-পীড়ন ও বহিষ্কারের পরিবর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধার বিকাশ এবং গবেষণাচর্চাই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ