Views Bangladesh Logo

গ্রুপ-কে

নতুন স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ব বিশ্বমঞ্চে গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো

আফ্রিকান ফুটবলের উদীয়মান শক্তিগুলোর মধ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো ধীরে ধীরে নিজেদের আলাদা পরিচয় তৈরি করছে। শক্তিশালী শারীরিক সক্ষমতা, দ্রুতগতির ফুটবল এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতার কারণে দলটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বেশ আলোচিত। দীর্ঘদিন পর আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে কঙ্গো। আফ্রিকান অঞ্চলের কঠিন বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়াই তাদের বড় আত্মবিশ্বাস। ফিফা র‌্যাকিংয়ে দলটিবর্তমানে ৪৬তম অবস্থানে আছে।

বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো এর আগে একবারই বিশ্বকাপ খেলতে পেরেছে। ১৯৭৪ সালে জায়ারের নামে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেয় দলটি। সেটিই ছিল সাব-সাহারান আফ্রিকার কোনো দেশের প্রথম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের ইতিহাস। যদিও সেই আসরে তারা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি, তবুও আফ্রিকান ফুটবলের অগ্রযাত্রায় তাদের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবার বিশ্বমঞ্চে ফেরার সুযোগ পাওয়ায় কঙ্গোর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে।

শক্তিমত্তা
কঙ্গোর সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের শারীরিক সক্ষমতা ও গতি। দলটির খেলোয়াড়রা দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক গড়ে তুলতে পারে এবং উইং ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে। মাঝমাঠে শক্তিশালী উপস্থিতির কারণে বল দখলের লড়াইয়ে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম। এছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলা কয়েকজন ফুটবলারের অভিজ্ঞতা দলটিকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। রক্ষণভাগেও তারা শারীরিকভাবে শক্ত এবং আকাশের বল মোকাবিলায় দক্ষ।

দুর্বলতা
তবে অভিজ্ঞতার ঘাটতি এখনো কঙ্গোর বড় সমস্যা। বড় টুর্নামেন্টে চাপের মুহূর্তে তাদের খেলায় অসংগতি দেখা যায়। রক্ষণভাগে মাঝে মাঝে সমন্বয়ের অভাব চোখে পড়ে, যা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিপদ ডেকে আনতে পারে। এছাড়া ম্যাচের শেষ দিকে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারাও তাদের একটি দুর্বলতা। টেকনিক্যাল ও বল নিয়ন্ত্রণভিত্তিক দলের বিপক্ষে কঙ্গো মাঝেমধ্যে সমস্যায় পড়ে।

গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
ফরোয়ার্ড সেড্রিক বাকাম্বু বর্তমানে স্পেনের ক্লাব রিয়াল বেতিসের হয়ে খেলেন। অভিজ্ঞ এই স্ট্রাইকার গোল করার দক্ষতা ও আক্রমণে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য পরিচিত। মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় গায়েল কাকুতা ফ্রান্সের ক্লাব আমিয়েঁর হয়ে খেলেন। তিনি সৃজনশীল পাস ও আক্রমণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ডিফেন্সের অন্যতম ভরসা শ্যান্সেল মবেম্বা ফ্রান্সের ক্লাব অলিম্পিক মার্সেইয়ের হয়ে খেলেন। শক্তিশালী ট্যাকল ও অভিজ্ঞতার কারণে রক্ষণভাগে তিনি দলের নেতা হিসেবে বিবেচিত। গোলরক্ষক লিওনেল মপাসি ফ্রান্সের ক্লাব রোদেজের হয়ে খেলেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও গুরুত্বপূর্ণ সেভের মাধ্যমে তিনি দলের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

প্রতিপক্ষ
ফিফার বিশ্বকাপ-২০২৬-এ গ্রুপ ‘কে’-তে কঙ্গোর প্রতিপক্ষ পর্তুগাল, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া। এই গ্রুপে সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ হবে পর্তুগালের বিপক্ষে, যেখানে তারকাসমৃদ্ধ আক্রমণভাগ সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কলম্বিয়ার শারীরিক ও গতিময় ফুটবলের বিপক্ষেও তাদের কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি হতে পারে গ্রুপে কঙ্গোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই, যেখানে তাদের জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোকে এবার বড় কোনো ফেভারিট ধরা না হলেও দলটি চমক দেখানোর সামর্থ্য রাখে। যদি তারা নিজেদের গতি, শারীরিক শক্তি ও কাউন্টার অ্যাটাক কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে, তাহলে বড় দলগুলোকেও পরীক্ষায় ফেলতে পারে। নকআউট পর্বে পৌঁছানোই তাদের প্রথম লক্ষ্য। সেটা হোক বা না হোক, সাহসী ও আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের নতুন পরিচয় তুলে ধরতে চাইবে আফ্রিকান দলটি।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ