Views Bangladesh Logo

মাছ খেলেই গ্যাস-অ্যাসিডিটি গ্যাস হয়? পুষ্টিবিদের ব্যাখ্যায় ভাঙল ভুল ধারণা

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

মাছে-ভাতে বাঙালির খাদ্যতালিকায় মাছের গুরুত্ব চিরকালীন। ছোট-বড় প্রায় সব বয়সী মানুষের নিয়মিত খাবারে মাছের তরকারি থাকে, অনেকে দিনে একাধিক বেলাতেও মাছ দিয়ে ভাত খেতে পছন্দ করেন। তবে এই ভালোবাসার পাশাপাশি একটি প্রচলিত ভীতিও রয়ে গেছে; মাছ খেলে গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

এই ধারণা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে কথা বলেছেন কলকাতার পুষ্টিবিদ স্বাগতা মুখার্জি। তাঁর মতে, মাছ মূলত একটি সহজপাচ্য খাবার। তাই অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে মাছ খাওয়ার কারণে গ্যাস বা অ্যাসিডিটি হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম। বরং শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে মাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মাছের পুষ্টিগুণ: প্রোটিনের ভাণ্ডার

মাছকে প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে রয়েছে জিঙ্ক, আয়রন, ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান, পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। নিয়মিত ও পরিমিত মাছ খাওয়া শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বাড়ন্ত শিশু, গর্ভবতী নারী এবং বয়স্কদের জন্য মাছ একটি সহজলভ্য ও সুষম প্রোটিনের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

গ্যাস-অ্যাসিডিটি থাকলে কীভাবে মাছ খাবেন

যাঁদের আগে থেকেই গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হলো—অতিরিক্ত তেল ও মসলা দিয়ে রান্না করা মাছ এড়িয়ে চলা। এর পরিবর্তে কম মসলায়, হালকা ঝোল করে রান্না করা মাছ খাওয়া তুলনামূলক নিরাপদ। রান্নার পদ্ধতিই এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে—ভাজা বা ঝাল-মসলাদার মাছের বদলে সেদ্ধ বা হালকা ঝোলের মাছ পেটের জন্য সহনীয় হয়ে ওঠে। পরিমিত পরিমাণে ও সঠিক পদ্ধতিতে রান্না করা মাছ খেলে সাধারণত সমস্যা তৈরির আশঙ্কা কম থাকে।

অ্যালার্জির ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি

তবে মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে সবার শরীর একইভাবে সাড়া দেয় না। কিছু মানুষের নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছ, বিশেষত সামুদ্রিক মাছ খেলে অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এর ফলে পেটে ব্যথা, বমিভাব, ডায়রিয়া কিংবা শরীরে র‍্যাশের মতো অস্বস্তি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হলো, যে নির্দিষ্ট মাছে সমস্যা হয়, তা চিহ্নিত করে এড়িয়ে চলা—পুরো মাছ জাতীয় খাবার বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

চর্বিযুক্ত মাছে বাড়তি সতর্কতা


ইলিশ, বোয়াল, ট্যাংরার মতো কিছু মাছে তুলনামূলকভাবে চর্বির পরিমাণ বেশি। এই বাড়তি চর্বি অনেকের ক্ষেত্রে হজমপ্রক্রিয়ায় বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে, বিশেষত যাঁদের হজমশক্তি দুর্বল বা যাঁরা আগে থেকেই পেটের সমস্যায় ভুগছেন। তাঁদের জন্য এসব চর্বিযুক্ত মাছ খাওয়ার সময় পরিমাণের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

প্রতিদিন মাছ খাওয়া কি ক্ষতিকর?

একটি প্রচলিত ধারণা আছে যে, প্রতিদিন মাছ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে পুষ্টিবিদের মতে, এই ধারণা সঠিক নয়। পরিমিত পরিমাণে প্রতিদিন মাছ খাওয়া ক্ষতির বদলে বরং শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে—প্রত্যেক ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, হজমক্ষমতা ও সহনশীলতা ভিন্ন। তাই মাছের প্রজাতি নির্বাচন এবং রান্নার পদ্ধতি ঠিক করার সময় নিজের শরীরের চাহিদা ও সীমাবদ্ধতা মাথায় রাখা জরুরি।

পরিশেষে বলা যায়, মাছ নিয়ে প্রচলিত গ্যাস-অ্যাসিডিটির ভীতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভিত্তিহীন। বরং সঠিক পদ্ধতিতে রান্না করা ও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া মাছ প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে নিশ্চিন্তে। তবে অ্যালার্জি বা দীর্ঘস্থায়ী পেটের সমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ