রাজধানীর ১২০ মোড়ে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর পরিকল্পনা
রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বর্তমানে ১২টি মোড়ে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে এ সংখ্যা ৬০-এর বেশি হবে বলে আশা করছে ট্রাফিক বিভাগ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে ধাপে ধাপে প্রযুক্তিনির্ভর করা হচ্ছে। সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যালের পাশাপাশি ভবিষ্যতে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ভিত্তিক নজরদারিসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
আনিছুর রহমান জানান, বর্তমানে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগে প্রায় ৪ হাজার ১০০ সদস্য কর্মরত থাকলেও ছুটি, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কারণে প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ সদস্য রাজধানীর ৬৬৮টি ট্রাফিক পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে প্রায় ২৫টি পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা তিন পালায় দায়িত্ব পালন করতে হয়। বাকি অধিকাংশ পয়েন্টে দুই পালায় দায়িত্ব পরিচালিত হয়।
তিনি বলেন, সীমিত জনবল দিয়েও গত প্রায় এক বছরে রাজধানীর ৭৫টি স্থানে সড়কের ডাইভারশন ও প্রকৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোথাও নতুন ডাইভারশন, কোথাও যান চলাচলের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে যানজট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পরিবর্তনের ফলে কোথাও নতুন করে বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি। বরং মাঠপর্যায়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে আসাদ গেটসংলগ্ন চার রাস্তার মোড়ে আগে প্রায়ই যানজট লেগে থাকত। পরে সেখানে সরাসরি চলাচল বন্ধ করে বাম দিকে ঘুরে কিছু দূরে ইউটার্নের ব্যবস্থা করা হয়। এতে বাম লেন সব সময় সচল থাকছে এবং ওই মোড়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সদস্যসংখ্যাও কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এ ধরনের পরিবর্তন রাজধানীর বসিলা, বনানীর কাকলী, মিরপুরের ইসিবি চত্বর এবং কালশী ফ্লাইওভারের নিচেও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আনিছুর রহমান বলেন, ঢাকা একটি ঘনবসতিপূর্ণ মহানগর। শুধু ট্রাফিক সদস্য বাড়িয়ে যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সড়কের নকশা ও যান চলাচলের ধরণ বিশ্লেষণ করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডাইভারশন ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনাই কার্যকর সমাধান।
তিনি আরও বলেন, ট্রাফিক বিভাগের কাছে কোন এলাকায় কখন যানজট বেশি হয়, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে। সেই অনুযায়ী সদস্য মোতায়েন করা হলেও দীর্ঘমেয়াদে শুধু ম্যানুয়াল পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তাই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনাই হবে রাজধানীর যানজট নিরসনের টেকসই সমাধান।
মতামত দিন