কমরেড মাও সে-তুঙের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঢাবিতে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
চীনের বিপ্লবী নেতা মাও সে-তুঙের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বরে আলোচনা সভা, লাল পতাকা মিছিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির শুরুতে লাল পতাকা মিছিল বের করা হয়। পরে মাও সে-তুঙের রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাম্রাজ্যবাদ ও শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর ভূমিকা এবং নিপীড়িত জনগণের মুক্তির আন্দোলনে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ‘গণশিল্পীর গানের দল’-এর আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিপ্লবী গণসংগীত, গান ও কবিতা পরিবেশন করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সাম্রাজ্যবাদ, শোষণ, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণের সংগ্রামে মাও সে-তুঙের রাজনৈতিক চিন্তা ও শিক্ষা এখনো গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিক-কৃষকসহ শোষিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শহিদ বিপ্লবী ও দেশপ্রেমিক স্মৃতি সংসদের সভাপতি এবং কমরেড মাও সে-তুঙের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন কমিটির আহ্বায়ক মাওবাদী কবি হাসান ফকরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন, ঢাকা মহানগরের সহসভাপতি কমরেড অরুণভ আশরাফ।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন শহিদ বিপ্লবী ও দেশপ্রেমিক স্মৃতি সংসদের সদস্য সৈয়দ আবুল কালাম, ছাত্র গণমঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদাউস রহমান রোদ, খনন পত্রিকার সম্পাদক বাদল শাহ আলম, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সভাপতি তাওফিকা প্রিয়া, লেখক ও সাংবাদিক আনিস রায়হান, নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চার সভাপতি জাফর হোসেন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের সভাপতি মাসুদ খান।
বক্তারা মাও সে-তুঙের নেতৃত্বে চীনের জনগণের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁদের ভাষ্য, সাম্রাজ্যবাদ, আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ ও সামন্তবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে চীনের বিপ্লব সংঘটিত হয়। মাও সে-তুঙের নেতৃত্বাধীন সেই সংগ্রাম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিপীড়িত মানুষের মুক্তির আন্দোলনেও প্রভাব ফেলেছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠান থেকে সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ, সামন্তবাদ ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলন আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।
মতামত দিন