Views Bangladesh Logo

গরমে ঘামের দুর্গন্ধে অস্বস্তি, করণীয় কী

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

দেশজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘামের সমস্যা যেন প্রতিদিনের সাধারণ বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। তবে ঘামের সঙ্গে যুক্ত তীব্র দুর্গন্ধ অনেকের জন্য শুধু শারীরিক অস্বস্তিই নয়, বরং সামাজিক পরিস্থিতিতে বিব্রত হওয়ার কারণও হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে গণপরিবহন, কর্মক্ষেত্র ও জনসমাগমে এই সমস্যা বেশি দৃশ্যমান।

চিকিৎসক ও ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘামের দুর্গন্ধ কোনো রোগ নয়, বরং এটি শরীরের ঘাম ও ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়ার জটিল রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফল। ঘাম নিজে গন্ধহীন হলেও, তা ত্বকের উপর থাকা ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এলে প্রোটিন ও ফ্যাটি অ্যাসিড ভেঙে দুর্গন্ধযুক্ত যৌগ তৈরি হয়।

ঘামের দুর্গন্ধ কেন বাড়ে?

মানবদেহে দুই ধরনের ঘামগ্রন্থি থাকে—একটি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে, অন্যটি নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে সক্রিয় থাকে। বিশেষ করে বগল, কুঁচকি, ঘাড় ও পায়ের পাতায় এই দ্বিতীয় ধরনের গ্রন্থি বেশি সক্রিয় থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুর্গন্ধ বাড়ার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে—

-অতিরিক্ত ঘাম ও আর্দ্র আবহাওয়া
-অপর্যাপ্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
-সিনথেটিক কাপড়ের ব্যবহার
-কিছু খাবার যেমন রসুন, পেঁয়াজ, লাল মাংস
-মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
-হরমোনজনিত পরিবর্তন
-কিছু ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস বা মেটাবলিক সমস্যা
-সামাজিক ও মানসিক প্রভাব

ঘামের দুর্গন্ধ শুধু শারীরিক সমস্যা নয়, বরং এটি সামাজিক আচরণেও প্রভাব ফেলে। অনেকেই জনসমাগমে আত্মবিশ্বাস হারান, হাত তোলা বা কাছাকাছি দাঁড়ানো এড়িয়ে চলেন। দীর্ঘমেয়াদে এটি মানসিক চাপ, লজ্জাবোধ এবং সামাজিক দূরত্ব তৈরি করতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সমস্যা দীর্ঘদিন চললে ব্যক্তির আত্মসম্মানবোধে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ঘামের দুর্গন্ধ কমানোর চিকিৎসা ও দৈনন্দিন সমাধান

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব সঠিক জীবনযাপন ও পরিচর্যার মাধ্যমে।

১. নিয়মিত গোসল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

দিনে অন্তত একবার গোসল করা জরুরি। গরমে দুইবার গোসল করলে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি অনেকটাই কমে। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।

২. সঠিক পোশাক নির্বাচন

সুতির ও হালকা কাপড় শরীরকে শ্বাস নিতে সাহায্য করে। সিনথেটিক কাপড় ঘাম আটকে রাখে, ফলে দুর্গন্ধ বাড়ে।

৩. খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ

রসুন, পেঁয়াজ, অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার ও লাল মাংস কমালে অনেক ক্ষেত্রে ঘামের গন্ধ কমে। পর্যাপ্ত পানি পান শরীরের টক্সিন কমাতে সাহায্য করে।

৪. অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ও ডিওডোরেন্ট ব্যবহার

ডিওডোরেন্ট গন্ধ ঢেকে রাখে, কিন্তু অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ঘাম কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

৫. প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার

লেবু, নিমপাতা, মেথি জল বা ফিটকিরির মতো প্রাকৃতিক উপাদান অনেক সময় ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে ত্বকের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় ব্যবহার করতে হবে।

ঘরোয়া টোটকা ও প্রচলিত পদ্ধতি

সমাজে ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে নানা ঘরোয়া উপায় প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে—

-বগলে লেবু ঘষা
-নিমপাতার পেস্ট ব্যবহার
-মেথি ভেজানো পানি পান
-ফিটকিরি পানি ব্যবহার

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উপায় কিছু ক্ষেত্রে সহায়ক হলেও এগুলো চিকিৎসার বিকল্প নয়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?

যদি ঘামের দুর্গন্ধ অস্বাভাবিকভাবে বেশি হয় এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরও না কমে, তাহলে এটি কোনো অন্তর্নিহিত রোগের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, হরমোনজনিত সমস্যা বা ত্বকের সংক্রমণ থাকলে চিকিৎসা প্রয়োজন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। এটি কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং স্বাস্থ্য ও পরিচর্যার অংশ। স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ