Views Bangladesh Logo

মিয়ানমার সীমান্ত অস্থিরতায় কূটনৈতিক সমাধান জরুরি

তি সম্প্রতি মিয়ানমারের জান্তা সরকার ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চরম সংঘাতের বিষয়টি বাংলাদেশে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা বিদ্রোহীদের ‘থ্রি গ্রুপ অ্যালায়েন্স’-এর হামলার মুখে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি) ও সেনাবাহিনীর বহু সদস্য প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। তা ছাড়া ১২ লাখ রোহিঙ্গার চাপ তো আগে থেকেই রয়েছে। ফলে মিয়ানমারের সীমান্ত ইস্যুতে দেশবাসী উদ্বিগ্ন আছে।

মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ২৭১ কিলোমিটার লম্বা সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্ত বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতের মিলিত সীমানাবিন্দু থেকে শুরু এবং দক্ষিণ দিক হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত। সর্বশেষ অংশ নাফ নদ বরাবর বিস্তৃত। এ ছাড়া এই সীমান্তের পুরোটাই উন্মুক্ত, কোথাও কোনো দেয়াল বা কাঁটাতার নেই। ফলে ওই সীমান্ত দিয়ে প্রায়ই মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশে ঢুকে পড়ার খবর পাওয়া যায়।

দেশের সীমানায় ঢুকে পড়া অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়; কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রাণে বাঁচতে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্য আমাদের দেশে ঢুকে পড়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়। তাই মানবিক দিক বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়ছে। তবে নিরাপদ উপায়ে কীভাবে তাদের আবার দ্রুত ফেরত পাঠানো যায়, এখন সে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে।

অবশ্য শিগগিরই তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের সরকার। তাদের নৌপথে মংডু দিয়ে ফেরত পাঠানো হতে পারে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। কেননা রাখাইন রাজ্যের অনেক স্থানে আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সংঘাত অব্যাহত থাকলেও মংডু শহর এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে; কিন্তু তাদের ফেরত পাঠাতে ঠিক কতদিন লাগতে পারে, সে ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে এখনো কিছু জানানো হয়নি।

মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা শুধু বাংলাদেশের সঙ্গে নয় বরং এই সমস্যা ভারত ও চীনের সঙ্গেও রয়েছে। তাই ভারত তাদের মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর কথা ঘোষণা করেছে। সেক্ষেত্রে ভারতের মতো আমাদেরও সীমান্তে কাঁটাতারের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।

এমতাবস্থায় আমরা মনে করি, এই পরিস্থিতিতে বিজিবির সীমান্ত এলাকায় কঠোরভাবে নিরাপত্তা বাড়াতে হবে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে আবার তলব করে কঠোর বার্তাসহ কূটনৈতিক সমাধান করতে হবে। যাতে কোনো ধরনের গোলাগুলি আমাদের বর্ডারের ভেতরে না আসে। এ দেশের মানুষের কোনো প্রাণহানির ঘটনা আর যেন না ঘটে। পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী শরণার্থীদের রাখাইন রাজ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করতে হবে। আমরা মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত সমস্যা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের শান্তিপূর্ণ সমাধান কামনা করি।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ