শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় ভারতের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ওসমান হাদি হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ আশা করে, ভারত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুততর করবে।’ একই সঙ্গে ওসমান হাদি হত্যায় জড়িত খুনিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত স্বাধীন জানান, বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। ঢাকায় প্রথম দুই মাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন ত্রিবেদী।
বৈঠকে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয় আলোচিত হয়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ত্রিবেদীর প্রথম বৈঠক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় গুলিবিদ্ধ হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার প্রধান দুই আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন ভারতে পালিয়ে যান বলে পুলিশ জানায়। গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স। পরে তাঁদের নয়াদিল্লিতে নেওয়া হয়।
গত এপ্রিলে নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান। ওই বৈঠকে দুই পক্ষ সম্মত হয়, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত এবং ২০১৬ সালে সংশোধিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় হত্যাসহ গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের ফেরত পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।
তবে গত জুলাই পর্যন্ত ভারতের অনুমোদন মেলেনি বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সব আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভারতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে গত এপ্রিলে বাংলাদেশে ভারতের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হন। গত ২৫ জুন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
মতামত দিন