Views Bangladesh Logo

নির্বাচন ঘিরে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা, ফাঁকা ঢাকা

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও তল্লাশি কার্যক্রমে নগরজীবনে এসেছে ভিন্ন এক আবহ।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই ঢাকার চিরচেনা ব্যস্ততা অনেকটাই অনুপস্থিত। সাধারণত যানজটে আটকে থাকা সড়কগুলো ছিল তুলনামূলক ফাঁকা। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন না।

রাজধানীর মিরপুর, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। মোড়ে মোড়ে গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে পুলিশ, র‍্যাবসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের। সন্দেহভাজন যানবাহন ও ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে।

শহরের ভেতরে গণপরিবহন ছিল খুবই সীমিত। কিছু প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও অল্পসংখ্যক সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা চলাচল করতে দেখা গেলেও পাবলিক বাসের সংখ্যা ছিল নগণ্য। এতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিও বেড়েছে।

ধামরাই থেকে ঢাকা আসা হৃদয় সরকার বলেন, সকালবেলা অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে কোনো যানবাহনই পাচ্ছিলাম না। চারদিক নীরব। রাজধানীর এত ফাঁকা চিত্রে আমরা অভ্যস্ত না। নির্বাচন ঘিরে নাশকতার ভীতিও তো আছে।

মিরপুর ইব্রাহিমপুর থেকে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হওয়া জামিল উদ্দিন বলেন, বাসা থেকে বের হয়ে কোনো রিকশাও পাইনি। মনে হচ্ছিল কারফিউ জারি হয়েছে। নির্বাচনী আমেজ তেমন দেখছি না। ফাঁকা রাজধানী আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ি দেখে কিছুটা ভীতিও লাগছে। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট না থাকায় যে দু-একটা প্রাইভেট গাড়ি, সিএনজি বা রিকশা চলছে, তারা বেশি ভাড়া চাইছে। নানা আশঙ্কা কাজ করছে মনে। তবে আমরা চাই, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক- কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন না হয়।

সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার থেকেই অনেকে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন। বাস টার্মিনালগুলোতে ছিল যাত্রীদের ভিড়। গ্রামের বাড়িতে ফিরে ভোট দেওয়ার আগ্রহ ও উৎসাহ লক্ষ করা গেছে অনেকের মধ্যে। তবে রাজধানীর ভেতরে সেই প্রাণচাঞ্চল্য অনুপস্থিত- ফাঁকা সড়ক, কম জনসমাগম আর নীরব পরিবেশ যেন ভিন্ন এক বার্তা দিচ্ছে।

অনেক প্রতিষ্ঠান আংশিক ছুটি ঘোষণা করায় অফিসগামী মানুষের সংখ্যাও কম ছিল। ফলে কর্মদিবস হওয়া সত্ত্বেও নগরজীবনে স্বাভাবিক গতি দেখা যায়নি।

নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তল্লাশি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ