Views Bangladesh Logo

শাহজালালে স্যাটেলাইট সংযোগ ছাড়াই দুই মাস ধরে চলছে বিমান

জরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্যাটেলাইট সংযোগ ছাড়াই দুই মাস ধরে বিমান চলাচল পরিচালনা করা হচ্ছে। স্যাটেলাইট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ফাইবার-অপটিক ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে চালানো হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে শীতকালীন কুয়াশার মতো প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিমান চলাচলে নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে।

বর্তমানে কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চললেও বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, বিমানবন্দরটি এখন মূলত একটি ব্যাকআপ সিস্টেমের ওপর পরিচালিত হচ্ছে। ফাইবার-অপটিক সংযোগ ব্যর্থ হলে দুর্বলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা সমস্যা শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।

বিমান চলাচল পরিচালনার জন্য স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কুয়াশার কারণে যখন দৃশ্যমানতা কমে যায়, তখন পাইলটরা নিরাপদে অবতরণের জন্য স্থল-ভিত্তিক সিস্টেম, যেমন ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস), রাডার এবং বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারীদের সাথে অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগের ওপর নির্ভর করেন।

এ সিস্টেমগুলোতে কোনো ব্যাঘাত ঘটলে অপারেশনাল ঝুঁকি বাড়ে এবং ফ্লাইট ডাইভারশনে বাধ্য করতে পারে। স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ভেরি স্মল অ্যাপারচার টার্মিনাল (ভিএসএটি) সিস্টেমগুলো বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনার জন্য নিরাপদ এবং স্থিতিস্থাপক যোগাযোগের জন্য সহায়ক। স্যাটেলাইট লিংক ব্যর্থ হলে ফাইবার-অপটিক লিংকগুলো সাধারণত সেকেন্ডারি বা ব্যাকআপ সংযোগ হিসাবে কাজ করে।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বর্তমানে সক্রিয় স্যাটেলাইট সংযোগ ছাড়াই বিমান চলাচল যোগাযোগব্যবস্থা পরিচালনা করছে। স্যাটেলাইটের পরিবর্তে ফাইবার-অপটিক ইন্টারনেট কেবলের মাধ্যমে যোগাযোগ পরিচালনা করা হচ্ছে। এটি উদ্বেগজনক।

একজন বিমান বিশ্লেষক বলেন, ‘ফাইবার-অপটিক কেবলগুলো প্রাথমিক সিস্টেম নয়, ব্যাকআপ হিসেবে থাকার কথা। যদি কেবল কেটে যায়, বিদ্যুৎ সমস্যা হয় বা নেটওয়ার্ক ব্যাহত হয়, তাহলে পুরো বিমানবন্দরের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।’

এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট (এটিএম) সদস্য এয়ার কমোডর নূর-ই-আলম বলেন, ‘স্যাটেলাইট সিগন্যাল হস্তক্ষেপের কারণে এই সমস্যাটি উদ্ভূত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখনও সমস্যার উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘এটি স্যাটেলাইট জ্যামিং সম্পর্কিত সমস্যা। উৎস এখনও চিহ্নিত করা হয়নি, তবে এটি সমাধান করা হবে। বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। এখনো কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।’

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) নিশ্চিত জানিয়েছে, সমস্যাটি স্যাটেলাইট-ভিত্তিক বিমান পরিবহন যোগাযোগের জন্য বরাদ্দকৃত ফ্রিকোয়েন্সি স্পেকট্রামে হস্তক্ষেপের সাথে সম্পর্কিত।

একটি সরকারি স্মারকলিপিতে বিটিআরসি বলেছে, ৪৫৪০-৪৫৪৬ মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডে অপ্রত্যাশিত সংকেতের কারণে সিএএবি কর্তৃক ব্যবহৃত ভিএসএটি সিস্টেমে অস্থায়ীভাবে বাধার সৃষ্টি করেছে।

এই ব্যান্ডটি বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) দ্বারা পরিচালিত বিএস-১ স্যাটেলাইটের জন্য নির্ধারিত। বিএসসিএলের অনুরোধের পর বিটিআরসির স্পেকট্রাম মনিটরিং শাখা তদন্ত চালায়।

গত বছরের ২০ অক্টোবর বিটিআরসি এবং বিএসসিএলের যৌথ পর্যবেক্ষণ দল মাঠ-স্তরের স্পেকট্রাম বিশ্লেষণ করে। তারা স্পেকট্রাম বিশ্লেষক ব্যবহার করে প্রভাবিত ব্যান্ডে দুটি সংক্ষিপ্ত ফ্রিকোয়েন্সি পিক শনাক্ত করে।

তবে সংকেতগুলো কেবল ক্ষণিকের জন্য উপস্থিত হওয়ায় এবং স্থিতিশীল না হওয়ায় তদন্তকারীরা তাদের উৎপত্তিস্থল শনাক্ত করতে পারেননি। ফলে সমস্যার উৎস অজ্ঞাত রয়ে গেছে।

ভবিষ্যতে বিঘ্ন রোধ করতে বিটিআরসি সিএএবি কর্তৃক ব্যবহৃত ভিএসএটি সিস্টেমের অপারেটিং ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড পরিবর্তন করার সুপারিশ করেছে।

নিরবচ্ছিন্ন বিমান চলাচল এবং বিমান চলাচল-সম্পর্কিত যোগাযোগ নিশ্চিত করার জন্য একটি ভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড বরাদ্দ করার পরামর্শ দিয়েছেন নিয়ন্ত্রক।

এই সুপারিশ সংবলিত আনুষ্ঠানিক চিঠি ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে কোম্পানিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

চিঠিটির অনুলিপি সিএএবি চেয়ারম্যান এবং বিএসসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ