এইচএসসি রেজাল্ট
শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে দক্ষ করে গড়ে তুলুন
বর্তমান বিশ্বে ইংরেজি শুধু আন্তর্জাতিক ভাষা নয়, ইংরেজি ভাষাভাষীহীন দেশে এটি এক বিশাল দক্ষতাও, কারণ ইংরেজি ছাড়া এখন ব্যবসা-বাণিজ্য-রাজনীতি-কূটনীতিসহ অনেক প্রযুক্তিগত বিষয়ও মোকাবিলা করা যায় না। প্রাথমিক স্তর থেকেই বাংলাদেশে ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে পাঠদান করা হয়; কিন্তু বহু বছরের অক্লান্ত চেষ্টার পরও এই দেশের ছাত্রছাত্রীদের ইংরেজি শিক্ষার দক্ষতা আশানুরূপ নয়।
ছোটবেলা থেকে তাদের ইংরেজিতে দক্ষ হয়ে গড়ে না ওঠার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তাদের ইংরেজি শিখতে হয় এবং ওই ইংরেজি শিখতে গিয়ে নিজস্ব বিষয়ে আর মনোযোগ দেয়া হয় না। ফলে নিজের বিষয়েও আর দক্ষ হয়ে গড়ে ওঠা সম্ভব হয় না, তার নেতিবাচক পরিণতি সারাজীবন ধরেই ভোগ করতে হয়।
গত মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) উচ্চমাধ্যমিক সর্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কারণে এ বছর সব পরীক্ষা দিতে পারেননি শিক্ষার্থীরা। স্থগিত হওয়া বিষয়গুলোর পরীক্ষা আন্দোলনের মুখে বাতিলের কারণে এবার উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষার মূল্যায়ন হয়েছে ভিন্ন পদ্ধতিতে। বাতিল হওয়া পরীক্ষাগুলোর মূল্যায়ন হয়েছে পরীক্ষার্থীদের এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে (বিষয় ম্যাপিং)। আর যে কটি বিষয়ের পরীক্ষা হয়েছিল, সেগুলোর উত্তরপত্রের ভিত্তিতে মূল্যায়ন হয়েছে।
এই দুই মূল্যায়ন মিলে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফল তৈরি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় মূল্যায়নের বিষয়ে অনেকেরই ধারণা ছিল, পাসের হার অনেক বেড়ে যাবে; কিন্তু নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার গতবারের চেয়ে কমেছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন হলো, পাসের হার কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ ইংরেজি বিষয়ের ফলের প্রভাব। বাধ্যতামূলক ইংরেজি বিষয়ে পাসের হার এবার অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় কম।
শুধু যে পাসের হার দিয়ে ইংরেজি বিষয়ের দুর্বলতা পুরোপুরি বোঝা যাবে তাও নয়। অতীতে এমন বহু দেখা গেছে যে ভালোভাবে পাস করার পরও ইংরেজিতে দক্ষ হয়নি। বাংলাদেশে অনার্স-মাস্টার্স পাস এমন বহু শিক্ষার্থীই পাওয়া যাবে, যারা ঠিক মতো ইংরেজি লিখতে-বলতে পারেন না। এর কারণ ইংরেজিকে ভাষা হিসেবে না নিয়ে অনেক ছাত্রছাত্রী একে অঙ্ক-বিজ্ঞানের মতো একটা জটিল বিষয় হিসেবে নেন, কোনোরকমে মুখস্থ করে পাস করে বটে; কিন্তু ইরেজি ভাষায় দুটি কথা বলতেও শিখেন না।
বিষয়টি দুঃখজনক এবং তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কথা হচ্ছে, এত বছর পড়েও কেন ছাত্রছাত্রীরা ইংরেজি শিখতে পারছেন না? বরং ইংরেজির পেছনে পড়ে থাকতে গিয়ে অন্যান্য বিষয়গুলোও তাদের ঠিকমতো শেখা হচ্ছে না। এ থেকে উত্তরণের উপায় কী? সম্প্রতি দেশে পাঠ্যক্রম বদলানো নিয়ে নতুন করে কথা হচ্ছে, শিক্ষা কমিটি গঠন নিয়ে কথা হচ্ছে। আমরা আশা করব, নতুন শিক্ষা কমিটি ইংরেজি শিক্ষার বিষয়টি নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাববেন।
এমন কোনো কার্যকরী পদ্ধতি তারা আবিষ্কার করবেন, যার মধ্য দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের অভিনব ও প্রায়োগিক পদ্ধতিতে ইংরেজি শেখানো সম্ভব। শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে না পারলে আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার মতো দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারব না। তাই আমরা চাই শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে গড়ে তুলতে সরকার আরও বেশি মনোযোগ দেবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে