Views Bangladesh Logo

২০২৭ সালের শেষের দিকে ভারতের বাজারে আসছে ডেঙ্গুর টিকা ‘ডেঙ্গিঅল’

বর্ষা এলেই ভারতে বাড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিবছরই এই মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হন বহু মানুষ। এর মধ্যে দেশটিতে ডেঙ্গুর দেশীয় টিকা বাজারে আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। সব ধাপ সফলভাবে শেষ হলে ২০২৭ সালের ডেঙ্গু মৌসুম শুরুর আগেই টিকাটি সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে আসতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (আইসিএমআর)।

কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে আইসিএমআরের মহাপরিচালক জানান, দেশীয় ডেঙ্গু টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও অনুমোদন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। তবে টিকাটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাজারে আসবে কি না, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপর।

আইসিএমআরের সহযোগিতায় দেশটির ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্যানাসিয়া বায়োটেক তৈরি করছে টেট্রাভ্যালেন্ট ডেঙ্গু টিকা ‘ডেঙ্গিঅল’। টিকাটির তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। আইসিএমআরের সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে ১৯টি কেন্দ্র ও ১৮টি রাজ্যে পরিচালিত এই পরীক্ষায় ১০ হাজার ৩৩৫ জনের অংশগ্রহণের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় টিকাটি ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর, কতটা নিরাপদ এবং শরীরে প্রয়োজনীয় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারে কি না—এসব বিষয় মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি প্রধান সেরোটাইপ রয়েছে। ফলে একটি টিকা কার্যকর হতে হলে চার ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধেই সুরক্ষা তৈরির সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।

পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণের পর টিকাটিকে বাজারজাত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। ফলে ২০২৭ সালের ডেঙ্গু মৌসুমের আগে টিকা পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হলেও এটিকে এখনই চূড়ান্ত সময়সীমা হিসেবে ধরা হচ্ছে না।

এদিকে ভারতে বিদেশি ডেঙ্গু টিকাও অনুমোদন পেয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিডিএসসিওর নথিতে জুলাই ২০২৬-এ তাকেদার টেট্রাভ্যালেন্ট ডেঙ্গু টিকার অনুমোদনের তথ্য রয়েছে। মার্চে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিশেষজ্ঞ কমিটিও ভারতীয় জনগোষ্ঠীর ওপর তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার তথ্য পর্যালোচনা করে টিকাটির বিষয়ে সুপারিশ দিয়েছিল।

ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা না থাকায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাধারণত উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। গুরুতর ডেঙ্গু হলে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ কারণে নিরাপদ ও কার্যকর টিকা সহজলভ্য হলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও রোগের বোঝা কমানোর ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সুত্র: আনন্দবাজার

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ