মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কেজরিওয়ালকে ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আটকের পর মুক্তি পেয়েছেন আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে ছাড়া পেয়েছেন মমতার দলের আটক হওয়া সংসদ সদস্যরাও।
ভোটাধিকার ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদের মধ্যে শনিবার (১০ অক্টোবর) তাঁদের আটকের ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির জাফরপুর কালান থানা থেকে কেজরিওয়ালকে মুক্তি দেওয়া হয়। অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় পুলিশি হেফাজতে থাকার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দলের অন্য নেতারা ছাড়া পান। তবে তাঁদের আটকের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী নেতারা।
মুক্তির পর পুলিশের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, দিল্লিতে তাঁদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা জরুরি অবস্থার সময়কার পরিস্থিতিকেও ছাড়িয়ে গেছে। পুলিশের কর্মকাণ্ডে তাঁদের মনে হয়েছে, যেন তাঁদের অপহরণ করা হয়েছে।
মমতা জানান, বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের কর্মসূচিতে অংশ নিতে তাঁরা বাড়ি থেকে যন্তর মন্তরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। পথে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। পরে তাঁরা একটি বাসস্ট্যান্ডের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য এসে তাঁদের জোর করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, আটকের পর পুলিশ তাঁদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে বা কেন আটক করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে এক থানা থেকে অন্য থানায় ঘোরানো হয় তাঁদের। এ ধরনের আচরণকে নজিরবিহীন হয়রানি হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এভাবে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করা যাবে না। তাঁর ভাষ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের দমনমূলক আচরণের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। ভোটাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
এদিকে, বিরোধী দলগুলোর আটকের ঘটনা ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পক্ষ থেকে দিল্লিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে আটকের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
মতামত দিন