ফুরোচ্ছে প্রতিরক্ষার অস্ত্র, বাংকারে সৌদি যুবরাজ
ইয়েমেনের ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁকে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে বাংকার–সুবিধাসম্পন্ন বিভিন্ন রাজপ্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর থেকে যুবরাজকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা তাঁকে বিশেষ প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা দলের তত্ত্বাবধানে লোকচক্ষুর আড়ালে রাখছেন।
হুতি বিদ্রোহীদের এক মুখপাত্র রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোয় আরও হামলার হুমকি দিয়েছেন। গত পাঁচ দিনে বিমানবন্দরটিতে চারবার হামলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকায় উড়োজাহাজ চলাচলবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল করতে হচ্ছে।
এদিকে, হুতিদের হামলার জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান। তবে ধারাবাহিক হামলা ঠেকাতে গিয়ে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসছে বলে কর্মকর্তারা উদ্বেগ জানিয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত মাসে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ।
উত্তেজনা কমাতে গত রোববার রাতে সৌদি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা টেলিফোনে কথা বলেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাজনৈতিক সংলাপের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিয়াদ ও হুতিদের মধ্যে আলোচনায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব হস্তক্ষেপ করার পর হুতিদের সঙ্গে দেশটির সংঘাত তীব্র হয়। ২০২২ সালে হওয়া যুদ্ধবিরতি পরবর্তী আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ভেঙে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মতামত দিন