Views Bangladesh Logo

যানজট কমাতে কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেট সরিয়ে গাবতলীতে নেয়ার সিদ্ধান্ত

রাজধানীর যানজট নিরসনে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট সরিয়ে গাবতলীতে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকা শহরের যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর মগবাজার-ফার্মগেট এর মাঝামাঝি সড়কে অবস্থিত কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেট ঢাকার অন্যতম প্রধান পাইকারি ও খুচরা বাজার। প্রায় ১৯৫০-৬০ এর দশকে এই বাজারের যাত্রা শুরু হয়। প্রায় ১৩ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত এই মার্কেটে পাঁচ শতাধিক দোকান রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে এখানে।

এর অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ— তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, মগবাজার, ফার্মগেট ও আসাদগেটের সংযোগস্থলে হওয়ায় এই সড়কটিতে সবসময় যানজট লেগেই থাকে। বিশেষ করে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পাইকারি ক্রেতাদের ভিড়, বাড়তি পণ্যবাহী ট্রাক ও লেগুনার চলাচলে এলাকায় চরম যানজটের সৃষ্টি হয়।

গাবতলী ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও পরিবহন এলাকা। এটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের প্রবেশপথে অবস্থিত, যেখানে ইতিমধ্যে একটি বড় বাস টার্মিনাল রয়েছে। নতুন কিচেন মার্কেটটি গাবতলী বাস টার্মিনালের কাছে ১০ একর জায়গায় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরানোর ফলে যেসব লাভ হবে
যানজট কমবে: কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন আসা-যাওয়া করে। বাজার সরিয়ে নিলে এই সড়কের যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। বিশেষ করে ফার্মগেট-মগবাজার-আসাদগেট সড়কে যানজট কমে সময় বাঁচবে সাধারণ মানুষের।

পরিবেশের উন্নয়ন: কিচেন মার্কেটের পচা আবর্জনা, জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব এলাকার পরিবেশকে চরমভাবে দূষিত করে। গাবতলীতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নর্দমা ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবেশ উন্নত করা সম্ভব।

নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা: গাবতলী এলাকায় কিচেন মার্কেট স্থানান্তরিত হলে সেখানে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বিক্রেতাদের পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিক, দিনমজুর ও অন্যান্য সহায়ক শিল্পের সৃষ্টি হবে।

আধুনিক সুবিধা: নতুন মার্কেটে আধুনিক অবকাঠামো থাকবে। মাল্টি-স্টোরিড বিল্ডিং, ঠান্ডা স্টোরেজ, ডেডিকেটেড লোডিং-আনলোডিং জোন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা থাকবে যা বর্তমান কারওয়ান বাজারে নেই।

সম্ভাব্য ক্ষতির দিক
ক্রেতাদের দূরত্ব বাড়বে: কারওয়ান বাজারের প্রধান সুবিধা ছিল এর কেন্দ্রীয় অবস্থান। গাবতলী অপেক্ষাকৃত দূরে হওয়ায় অনেক ক্রেতা অসুবিধায় পড়তে পারেন।

ব্যবসায়ীদের অসুবিধা: প্রায় দশকের পর দশক ধরে কারওয়ান বাজারে ব্যবসায়ীরা প্রতিষ্ঠিত। নতুন জায়গায় স্থানান্তরিত হতে সময় ও অর্থ খরচ পড়বে।

যানজট গাবতলীতেও ছড়াতে পারে: গাবতলী বাস টার্মিনাল ও মোহাম্মদপুর থেকে আসা যানবাহনে ইতিমধ্যে এলাকায় চাপ রয়েছে। নতুন কিচেন মার্কেট যোগ করলে সেখানে যানজট বাড়তে পারে। আবার, ঢাকার বাইরে যেসব বাস যায়, তার বেশিরভাগই গাবতলী হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে দূরপাল্লার যাত্রীদের যানজটের সম্মুখীন হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাস্তবায়ন জটিলতা: মাত্র ১০ একর জায়গায় পুরো কারওয়ান বাজার স্থানান্তর সম্ভব কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অপরিকল্পিত স্থানান্তর পুরো উদ্যোগকেই ব্যর্থ করতে পারে।

বৈঠকে ঢাকা মহানগরীর চলমান যানজট পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফ্লাইওভারে যানবাহনের চাপ, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাস, পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ