ইরাকে সৌদি আরব-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় নিহত বেড়ে ২০
সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জবাবে ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেনটকম)। এই যৌথ হামলায় ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর ২০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে গোষ্ঠীটি।
বুধবার (২৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্টকম জানায়, গত ৭২ ঘণ্টায় মার্কিন বাহিনী ও সৌদি জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নির্দেশে পরিচালিত হয়েছিল।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের তেল স্থাপনায় হামলা চালানো ইরাকভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, রিয়াদ পরিস্থিতির আর কোনো অবনতি বা উত্তেজনা বাড়াতে চায় না তারা, তবে যেকোনো ‘আগ্রাসনের’ উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
তবে এই হামলায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের ওপর যেকোনো হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা একটি ‘বড় ধরনের ভুল হিসাব-নিকাশ’।
ইরান সমর্থিত সশস্ত্র জোট পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) দাবি করেছে যে, ইরাকজুড়ে তাদের বিভিন্ন সদর দপ্তরে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের ২০ জন যোদ্ধা নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন।
পিএমএফ আরও জানায়, এই হতাহতের সংখ্যা প্রাথমিক এবং মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার কাজ চলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ আধাসামরিক বাহিনীর এই জোটটি ‘হাশদ আল-শাবি’ নামেও পরিচিত, যা ইরাকের সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত এবং এর বেশ কয়েকটি দল ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
এদিকে এই ড্রোন হামলার পর গত সোমবার এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মতামত দিন