ইরানে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫
ইরানে সরকারবিরোধী তীব্র গণবিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৮ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) এক বিবৃতিতে জানায়, চলমান আন্দোলনের মধ্যে গত বুধবার ছিল সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন। ওই দিনই দেশের বিভিন্ন এলাকায় একদিনে প্রাণ হারান অন্তত ১৩ জন।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়নই এই নজিরবিহীন আন্দোলনের প্রধান কারণ। দীর্ঘদিন ধরে রিয়ালের দরপতন ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
এরই প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রথমে ধর্মঘটের ডাক দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তা দেশজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। এখন বিক্ষোভকারীরা কেবল অর্থনৈতিক সংস্কার নয়, বরং ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারের মৌলিক পরিবর্তনের দাবিও তুলছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তবে তথ্যপ্রবাহ সীমিত করা হলেও আন্দোলন থামেনি। বরং অনেক এলাকায় বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। কিছু স্থানে সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে বিদেশে নির্বাসিত ইরানের ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন, যা আন্দোলনকে আরও রাজনৈতিক রূপ দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, এই অভূতপূর্ব জনরোষ সামাল দিতে গিয়ে ইরান সরকার চরম চাপে পড়েছে।
চলমান এই অস্থিরতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেও নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। আইএইচআর ও এএফপি জানিয়েছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে। সূত্র: এএফপি
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে