Views Bangladesh Logo

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৩ জনের মৃত্যু, এখনো নিখোঁজ বহু

দক্ষিণ জাপানের কিউশু দ্বীপের কুমামোতো অঞ্চলে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে আঘাত হানা এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে হাজারো বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে এবং বহু রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উদ্ধারকর্মীরা এখনও ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর কুমামোতো শহরের কাছে আয়ন শপিং মলের আংশিক ধসে পড়া ভবনে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুই তুরুণী নিহত হন। শপিং মলের ধ্বংসস্তূপ থেকে আটজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে উদ্ধারকর্মীরা। তবে এখনও মলের ২০ থেকে ৩০ জন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে।

টোকিওতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিসাংবাদিকদের বলেন, এখনও বহু মানুষ উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন, এটি মূলত সময়ের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার লড়াই। যত বেশি সম্ভব মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি ও বেসরকারি সাহায্য, জনবল এবং যন্ত্রপাতিকে কাজে লাগানো হবে।

জাপানের প্রধান সরকারি মুখপাত্র মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত শপিং মলটির ভেতরে উদ্ধারকর্মীরা গ্যাসের গন্ধ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। সেখান থেকে গ্যাস লিক হয়ে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরও জানান, মলের যেসব অংশ থেকে সাহায্যের ডাক পাওয়া গেছে, সেখানে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও প্রায় ১৭০ জন সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ভূমিকম্প-আক্রান্ত পুরো অঞ্চলে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কাজে ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ছাড়াও ভূমিকম্পে নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের একটি কারখানার চিমনি ধসে পড়ে অন্তত সাতজন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন এবং চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় এক সরকারি কর্মকর্তা। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ডজন ডজন আহত মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ভূমিকম্পের পর কুমামোতো প্রশাসন প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভূকম্পনের পর থেকে তারা ধসে পড়া ভবন থেকে উদ্ধারের অনুরোধ জানিয়ে অন্তত ৩৮৬টি ফোনকল পেয়েছে।

এই ভূমিকম্পের মূল উৎপত্তিস্থল বা উপকেন্দ্র ছিল কুমামোটো শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে, যা মধ্য কিউশু অঞ্চলের বৃহত্তম শহর এবং যেখানে প্রায় ৭ লাখ মানুষের বসবাস। আবহাওয়া ও ভূতাত্ত্বিক দপ্তর সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আগামী অন্তত এক সপ্তাহ সেখানে শক্তিশালী আফটারশক এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস হতে পারে।

বর্তমানে ওই অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে তীব্র দাবদাহ বিরাজ করছে, যার মধ্যে ৩৬ হাজারের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ