জবিতে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ, অফিস ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন ডিন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলামকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
আজ বৃহস্পতিবার সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অর্থনীতি বিভাগের সামনে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে অর্থনীতি বিভাগের অফিস থেকে বেরিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন তিনি। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, ছাত্রদল, জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মী এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, ‘জুলাই যোদ্ধা ও সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে শিক্ষার্থীরা ডিন কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং ড. আইনুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তার নিয়োগ বাতিলের আহ্বান জানান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ড. আইনুল ইসলামের ভূমিকা বিতর্কিত ছিল। তাদের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ৩ আগস্ট গণভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। এসব বিষয় তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা তার কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন, আর কথোপকথনের একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি ডিন অফিস ত্যাগ করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জাতীয় ছাত্রশক্তির জবি শাখার সদস্যসচিব শাহিন মিয়া বলেন, ড. আইনুল ইসলামের জুলাই আন্দোলনবিরোধী অবস্থান ও গণভবনের বৈঠকে অংশগ্রহণের স্পষ্ট প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ বিষয়ে জবাব চাইলে তিনি কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি বলে অভিযোগ করেন শাহিন মিয়া।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, আজ ১৬ জুলাই জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে জুলাই যোদ্ধারা ড. আইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে আন্দোলন করেছেন। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে তিনি অফিস ত্যাগ করেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান প্রক্টর।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. আইনুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা কিছু অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানানোয় পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি সসম্মানে অফিস ত্যাগ করেন। তার দাবি, ডিন হিসেবে তার নিয়োগ সম্পূর্ণ আইনগতভাবে হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর অনেকটাই পুরোনো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গণভবনের বৈঠকে তিনি তৎকালীন রেজিস্ট্রার হিসেবে প্রশাসনের নির্দেশেই গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি, আর অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা খতিয়ে দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেন।
মতামত দিন